মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার (Unjust Tariff) হুমকি দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে চাপ বাড়ালেন ভারতের ওপর। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রাসী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নীতি বহু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মানজনক এবং অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচিত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ (Donald Trump)
ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ছ’টি দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সরাসরি ভারতের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন হুমকি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানি খাতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় শিল্প ও রফতানিকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা (Donald Trump)।
বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের কৃষি ও দুধের বাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বাজার খুলে দিতে রাজি হয়নি নয়াদিল্লি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বিপন্ন হবে খাদ্য নিরাপত্তা। ওয়াশিংটনের লাগাতার চাপ সত্ত্বেও ভারত এই বিষয়ে তার নীতি থেকে এক চুলও সরেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটিই ভারতের নীতিগত স্বাধীনতার প্রকাশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থান মেনে নিতে না পেরে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতকে শাস্তি দিতে চাইছে বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। গত বছর সেপ্টেম্বর–নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল ভারত-মার্কিন এই বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু তা এখনও ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও পড়েছে প্রশ্নের মুখে (Donald Trump)।
মার্কিন হুমকি!
ভারতের ওপর চাপ আরও খানিক বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অধিকারকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প প্রশাসন ভয় দেখিয়ে আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ (Donald Trump)।
ট্রাম্পের পদক্ষেপে অস্থিরতা
ভারত ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চিনের নৌবাহিনীর সম্ভাব্য তৎপরতা গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাঁর এই বক্তব্য ফের একবার ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নিয়ম, কূটনৈতিক শালীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি অবহেলার শামিল বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানে, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন (Donald Trump)।
মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।” এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পূর্ব এশিয়ায়ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে চিন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Unjust Tariff)। এদিকে, মার্কিন আগ্রাসী কূটনীতি ও একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সংকট বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বৈশ্বিক বাজারে। লগ্নিকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।
সোনার দামে প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক লাফে ১২৬ মার্কিন ডলার বেড়ে পৌঁছেছে ৪,৪৫৮ ডলারে। ভারতের বাজারেও সোনার দাম দ্রুত বেড়েছে। সোমবারই সোনার দাম বেড়েছে ১,৭৬০ টাকা প্রতি আউন্স। বিশ্ববাজারে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই সোনার দাম আরও ২,০০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। একই সঙ্গে বাড়তে পারে রুপোর দামও।সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের মুখোমুখি সংঘাতমুখী নীতি—যার মধ্যে শুল্ক হুমকি, সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা রয়েছে, শুধু ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এর ঠিক উল্টো দিকে তাকালে দেখা যাবে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কৃষক, শ্রমিক ও দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় আপোসহীন মনোভাব বজায় (Unjust Tariff) রেখে নয়াদিল্লি দায়িত্বশীল ও সার্বভৌম বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছে (Donald Trump)।

Leave a Reply