মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই রাজ্যের চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন (Election Commission) কমিশন। তার পরেও এফআইআর দায়ের করা হয়নি তাঁদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই শুক্রবার দিল্লিতে কমিশনের দফতরে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। সেখানে কার্যত প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে হয় তাঁকে (AEROs)। রাজ্য অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে গড়মসি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে যাতে এফআইআর দায়ের করা হয়, সেজন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় কমিশন।
বিধানসভা নির্বাচন (Election Commission)
মধ্য-মার্চেই শুরু হয়ে যেতে পারে এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকা ঝাড়াই-বাছাই করতে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। এহেন আবহে বাংলার আরও সাত আধিকারিককে দ্রুত সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল কমিশন। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পদক্ষেপ করতে নবান্নে একটি চিঠিও দিয়েছে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, এই সাত আধিকারিকও বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তাঁরা পালন করছিলেন এইআরও-র দায়িত্ব। তাঁদের বিরুদ্ধেই কাজে অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবারই এই মর্মে দিল্লি থেকে নির্দেশ এল রাজ্যে (Election Commission)। এই নির্দেশে অভিযুক্ত সাত আধিকারিকের নাম, কর্মস্থলের উল্লেখ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সাসপেন্ড করার নির্দেশ
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সামশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ দাস, সূতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলম। সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই আধিকারিক ক্যানিং পূর্বের এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডুকে (AEROs)। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডেবরার বিডিও তথা এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে। সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরীকে।
চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ
জানা গিয়েছে, গত বছরই দুই জেলার চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরওদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা ভূতুড়ে ভোটারদের নাম তালিকায় বেআইনিভাবে তুলেছেন বলে অভিযোগ। ওই চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। এই সুরজিৎ বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। তাঁকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশনকে জানালেও, নবান্ন সাফ জানিয়ে দেয়, বাকিদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।
রাজ্যকে চিঠি কমিশনের
এই বিষয়ে গত বছর ৫ অগাস্ট প্রথমে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। এর ঠিক তিনদিন পরেই ফের পাঠানো হয় চিঠি। তার পরেও নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়ায় রাজ্যকে আবারও চিঠি দেয় কমিশন। জেলাশাসকদের তরফে দু’বার রিমাইন্ডারও দেওয়া হয়। পরে রাজ্যের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে (AEROs) অপরাধ এফআইআর করার মতো যথেষ্ট নয়। লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেওয়াও ঠিক নয় (Election Commission)।
কী বললেন শুভেন্দু
এদিকে, কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রথম সরাসরি সাসপেন্ড করার ক্ষমতা দেখাল নির্বাচন কমিশন। এতদিন কমিশন কেবল পরামর্শ দিচ্ছিল, এবার অ্যাকশন শুরু হয়েছে। কমিশন চাইলে এদের বিরুদ্ধে এফআরআরও করতে পারে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই আধিকারিকরা তৃণমূলের নির্দেশে ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট নিয়ে কমিশনের গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর (Election Commission) দাবি, এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত এবং মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা।

Leave a Reply