মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর (Gandhi Jayanti) সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। শান্তি, অহিংসা ও স্বচ্ছতার বার্তা স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi’s Tribute To Bapu)। এরপর তিনি বিজয় ঘাটে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও রাজঘাটে সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিজয় ঘাটে গিয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। রাজঘাটে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানান দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাপুর চিরন্তন বার্তা
রাজঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি সৌধে ফুল ছড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। এক্সে মোদি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আত্ম বলিদান দেশের প্রগতি এবং উন্নতির এবং ‘বিকশিত ভারতের’ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “বাপুর চিরন্তন বার্তা আমাদের উন্নত এবং বিকশিত ভারত উন্নতির লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে গান্ধী জয়ন্তীর পালনের মুহূর্তের ছবিও এক্সে টুইট করেন মোদি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান্ধী জয়ন্তী পালন
রাজস্থানের জয়পুরে রাজ্য সচিবালয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। একই সঙ্গে তিনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। হরিয়ানার গুরুগ্রামে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছাথন ২০২৬’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান্ধী জয়ন্তীতে কলকাতাতেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তিতে সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
শান্তি ও অহিংসার বার্তা স্মরণ রাষ্ট্রপতির
গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গান্ধীজির শান্তি ও অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বার্তায় বলা হয়, মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে সম্মানিত। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর শান্তি ও অহিংসার দর্শন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তার জন্য সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’-এর আদর্শের সঙ্গে এই ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩০ দিনের স্বচ্ছতা অভিযান
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৩০ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর জন্য সাধারণ মানুষ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য সংস্থাকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাঁর জন্মদিনটি প্রতিবছর গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘও ২ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে পালন করে। মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষেই দেশজুড়ে প্রতি বছর জাতীয় ছুটি পালন করা হয়।
লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী
এদিনই পালিত হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শাস্ত্রী। স্বাধীনতার পর শাস্ত্রী উত্তর প্রদেশে এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন, ১৯৫৬ সালের একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনার পর তিনি সেই মর্মান্তিক ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই দৃষ্টান্তটি আজও জনজীবনে জবাবদিহিতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্ব এবং কৃষি ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়ার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তিনি খাদ্য স্বনির্ভরতার পক্ষে ছিলেন এবং সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেন। এছাড়াও তিনি দেশজুড়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্বেত বিপ্লবকেও সমর্থন করেছিলেন।

Leave a Reply