India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

India Pakistan Conflict

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত আগেই তা খারিজ করেছে। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চিনের (India China) মধ্যস্থতা করার দাবিকেও উড়িয়ে দিল ভারত। নয়াদিল্লি ফের জানিয়ে দিল, ভারত–পাকিস্তান সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সরাসরি দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেই গৃহীত হয়েছে।

বিদেশমন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

বুধবার চিনের (India China) বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দাবি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে ভারত জানাল, সংঘর্ষবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। দুই দেশের ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস’ (ডিজিএমও)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরই ১০ মে যুদ্ধ স্থগিত করা হয়। সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়েছে, “আমরা এই ধরনের দাবি ইতিমধ্যেই খারিজ করেছি। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। অতিতেও একাধিকবার আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও-দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে।”

চিনের দাবি ওড়াল ভারত

সম্প্রতি বেজিংইয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Conflict) কৃতিত্ব দাবি করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনও এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাত দেখা যায়নি। যা এই বছর দেখা গিয়েছে। কঠিন এই সময়ে চিন নিরপেক্ষ ও ন্যায় সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে।” উদাহরণ তুলে ধরে একইসঙ্গে তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষে চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।” ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চিনের এহেন দাবি সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নেয়। এবার সে দাবি স্পষ্টভাষায় খারিজ করল ভারত।

কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই এই প্রথম নয়

এই প্রথম নয়—এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করেছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেমেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই রাজি করিয়েছেন। ভারত সরকার এই দাবি উড়িয়ে দেয় প্রথম থেকেই। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সামরিক স্তরে ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়নি, হবেও না।

চিনের দ্বিচারিতা

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চিনের সাম্প্রতিক এই দাবি তাদের দ্বিচারিতা তুলে ধরে। কারণ, সংঘাত চলাকালীন বেজিং প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ভারতের হামলায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১১টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং সম্প্রতি জানান, এই সংঘাতকে চিন কার্যত একটি “লাইভ ল্যাব” হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তান ছিল সামনে, আর চিন সব রকম সহায়তা দিচ্ছিল। গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই চিনের। নিজেদের অস্ত্র অন্য দেশের অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।”

কেন এই দাবি চিনের 

চিনের উপর নতুন বছরের শুরু থেকেই কিছু ইস্পাত পণ্যে ১১-১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন বছরের মেয়াদে এই শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপে চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানির বাণিজ্যে লাগাম পরানো যাবে বলে অনুমান। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম বছরে ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.৫ শতাংশ ও তৃতীয় ও শেষ বছরে ১১ শতাংশ হারে শুল্ক বসাতে চলেছে ভারত। দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই আবহে ভারতকে কিছুটা চাপে রাখতে হঠাতই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যস্থতার দাবি করল বেজিং। খানিকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই অযৌক্তিক দাবি করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।

সংঘাতের পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি। এরপর সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ। চারদিন টানা উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে। ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ চলাকালীন একাধিক দেশ উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছিল। সৌদি আরব, আমেরিকা, রাশিয়া, চিন দুই দেশের সঙ্গেই কথা বলে এবং সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানায়। তবে নয়াদিল্লির বক্তব্য, চূড়ান্ত স্তরে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share