Mount Everest Expedition: কঠিন অভিযান! ৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে ফিরতে পারে ভারতীয় জওয়ানের দেহাবশেষ

mount everest expedition 30 years ago govt plans to bring back remains of a itbp solider

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় তিন দশক আগে মাউন্ট এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’-এ (Mount Everest Expedition) নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক ভারতীয় জওয়ানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনতে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ এভারেস্ট বিপর্যয়ের সময় প্রাণ হারিয়েছিলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-র ল্যান্স নায়েক দোরজি মরুপ। এবার তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইটিবিপি।

অন্যতম কঠিন অভিযান

পাহাড় আরোহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন মৃতদেহ উদ্ধারের অভিযান হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই উচ্চতর পর্বতাঞ্চলে উদ্ধারকাজে দক্ষ সংস্থা নিয়োগের জন্য টেন্ডার জারি করেছে আইটিবিপি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মরুপের দেহাবশেষ এভারেস্টের উত্তর ঢালে, তিব্বত-সংলগ্ন অংশে প্রায় ২৭,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলটি ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম যে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে হিমাঙ্কের নিচে দেহাবশেষ

অভিযানের জন্য অন্তত ছয়জন অত্যন্ত দক্ষ নেপালি শেরপার প্রয়োজন হবে, যাঁদের অধিকাংশই এভারেস্টজয়ী এবং ৮,০০০ মিটারের ওপরে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধারকাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। উদ্ধারকারী সংস্থাকে তিব্বতে চীনা প্রশাসনের অনুমতি সংগ্রহ, তিব্বত-নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে দেহাবশেষ পরিবহণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে হিমাঙ্কের নিচে থাকা দেহাবশেষ সংরক্ষণের দায়িত্বও নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মেনেই সম্পন্ন করতে হবে। ১৯৯৬ সালের ১০ মে এভারেস্টের উত্তর দিক দিয়ে শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করছিলেন আইটিবিপি-র ছয় সদস্যের একটি দল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনজন ফিরে এলেও সুবেদার সেওয়াং সামানলা, ল্যান্স নায়েক দোরজি মরুপ এবং হেড কনস্টেবল সেওয়াং পালজোর এগিয়ে যান। পরে ভয়াবহ তুষারঝড়ে তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান এবং আর শিবিরে ফিরতে পারেননি।

‘ডেথ জোন’ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

পরবর্তী সময়ে এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব রিজের একটি গুহার কাছে পড়ে থাকা এক আরোহীর দেহ ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিতি পায়। মৃতদেহটির পায়ে থাকা সবুজ রঙের কফলাখ বুটের কারণেই এই নামকরণ। বহু বছর ধরে পর্বতারোহী মহলে বিতর্ক রয়েছে, ওই দেহটি আসলে সেওয়াং পালজোরের নাকি দোরজি মরুপের। তবে আইটিবিপি-র টেন্ডার নথিতে ‘গ্রিন বুটস’-এর উল্লেখ মরুপের নামের পাশেই থাকায় বাহিনীটি দেহটিকে মরুপের বলেই মনে করছে। উল্লেখ্য, ‘ডেথ জোন’ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্বতারোহী অভিযানের মধ্যে অন্যতম। উদ্ধারকারীদের তুষারধস, ঝড়, খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং অক্সিজেনের তীব্র অভাবের মতো বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। এমন উচ্চতায় অল্প দূরত্বে একটি মৃতদেহ নামিয়ে আনতেও একাধিক শেরপার প্রয়োজন হয়। ফলে এই ঐতিহাসিক অভিযানের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার উপর।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share