Mumbai Election Results: মুম্বই পুর নির্বাচনে বিজেপি ও শিবসেনা জোটের জয়জয়কার, নেপথ্যে ফ্যাক্টরগুলো কী কী?

mubai bmc election result what factors led to bjp’s massive victory in maharashtra municipal corporation in 2026

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই থেকে পুণে, নাগপুর থেকে আকোলা— মহারাষ্ট্রের পুরভোটে বিজেপি এবং তার জোটের জয়জয়কার। শুক্রবার বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন (Mumbai Election Results) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ১১৯টি আসনে এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, মহা বিকাশ আঘাদি (এমভিএ) ৭১টি আসনে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যান্যরা দশটি আসনে এগিয়ে আছে। মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি–শিন্ডে সেনা জোটের নিরঙ্কুশ জয় রাজ্যের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) দখল করে ঠাকরে পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যে সবচেয়ে বড় আঘাত হানল এই জোট। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৭ সালের তুলনায় মুম্বইয়ে নিজের আসনসংখ্যা বাড়িয়েছে, আর একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সমর্থনে জোট অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। ফলে বিএমসিতে বিজেপি–শিন্ডে সেনার মেয়র হওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে মহাযুতির বড় জয়ের পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ।

মহারাষ্ট্রের এক নম্বর রাজনৈতিক দল

মারাঠাদের এই রায় স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মহারাষ্ট্রের শহুরে রাজনীতিতে এক গভীর পরিবর্তন চলছে। উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরের বহু আলোচিত রাজনৈতিক সমঝোতাও বিজেপির উত্থান থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভক্ত বিরোধী শিবির, বদলে যাওয়া জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এবং ভোটারদের নতুন অগ্রাধিকার মিলিয়ে শাসক জোটের পক্ষেই পাল্লা ভারী হয়েছে—শুধু মুম্বই নয়, রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও। এই ফলাফল বিজেপিকে মহারাষ্ট্রের এক নম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। শুধু বিধানসভা বা লোকসভা নয়, শহুরে নাগরিক প্রশাসনেও বিজেপির প্রভাব এখন স্পষ্ট।

হিন্দুত্ব প্লাস উন্নয়ন

‘হিন্দুত্ব প্লাস উন্নয়ন’—বিজেপির এই রাজনৈতিক বার্তা তরুণ শহুরে ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আবেগী ঐতিহ্যের চেয়ে শাসন, পরিকাঠামো ও কল্যাণমূলক প্রকল্পই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেবেন্দ্র ফড়নবীস রাজ্যের বিজেপিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার জায়গা আরও শক্ত করলেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের অন্যতম প্রধান গণনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঠাকরে ব্র্যান্ডের স্পষ্ট অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুম্বই আর শিবসেনার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি হিসেবে একচেটিয়া ভোট দিচ্ছে না—এটাই বড় ইঙ্গিত। পওয়ার পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে শহুরে অঞ্চলে, ক্রমশ কমছে। শুধুমাত্র পারিবারিক পরিচয় দিয়ে ভোটারদের টানার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বিজেপির নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি আবারও ভোটে সাফল্য এনে দিয়েছে, যা এই ধরনের প্রকল্পের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও জোরালো করে।

বিভক্ত ও অসংগঠিত বিরোধী শিবির

কংগ্রেস মহারাষ্ট্রের শহরাঞ্চলে তার ভোটব্যাংক হারাচ্ছে, যা নগরভিত্তিক নির্বাচনে দলের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিভক্ত ও অসংগঠিত বিরোধী শিবির বিজেপিকে বড় সুবিধা করে দিয়েছে। মুম্বইয়ের বদলে যাওয়া জনসংখ্যাগত কাঠামো শিবসেনার ঐতিহ্যগত রাজনীতির পক্ষে আর সহায়ক নয়। মারাঠি ভোট একাধিক দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ভারতীয় ও অ-মারাঠি ভোটের বড় অংশ বিজেপির পক্ষে একত্রিত হয়েছে। রাজ ঠাকরের আক্রমণাত্মক ‘বহিরাগত বিরোধী’ রাজনীতি তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী শহুরে ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

পাওয়ার গোষ্ঠীর ভরাডুবি

শরদ এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি মুম্বইয়ে এখনও খাতাই খুলতে পারেনি। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে পুণে এবং পিম্পরি ছিঁচওয়াড়ে একসঙ্গে লড়েছিল দুই এনসিপি। দুই পুরসভাতেই বিজেপির সামনে তারা কার্যত উড়ে গিয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে এনসিপি (শরদ) এবং এনসিপি (অজিত পাওয়ার)-এর জোট। কাকা শরদ পাওয়ারের দলে ভাঙন ধরিয়ে বেরিয়ে এসে বিজেপি-র হাত ধরেছিলেন অজিত। এমনকি কাকার দলের প্রতীকও ছিনিয়ে নেন তিনি। এরপরেও, পিম্প্রি দখলে রাখতে কাকার হাত ধরেই লড়েন অজিত। সেই জোটকেও ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। পুণের ১৬৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৪৩টি, কংগ্রেস ৭টি, এনসিপি (অজিত পাওয়ার) ৫টি এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) ৩টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পৌরসভায় ১২৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৭০টি ওয়ার্ডে, এনসিপি ৪০টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। পশ্চিম মহারাষ্ট্রের অন্যান্য শহর, যেমন কোলাপুর, সাতারা, সোলাপুর এবং সাঙ্গলি পৌরসভাতেও বিজেপি শীর্ষস্থান দখল করেছে।

ঠাকরে দুর্গের পতন

মহারাষ্ট্রের ২৯টি পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন (বিএমসি)-এর নির্বাচন, যা ভারতের সবচেয়ে ধনী এবং এশিয়ার অন্যতম ধনী পৌর সংস্থা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস রাজ্যের বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র চৌহানকে ফোন করে পৌরসভা নির্বাচনে জোটের বিশাল অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস বলেছেন, ২০২৫-২৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করল। এই ফলাফল কেবল রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যই বদলে দিয়েছে না, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের গতিপথও অনেকটাই বদলে দিয়েছে। মুম্বাই পৌর কর্পোরেশনে (বিএমসি) বিজেপি এবং তার মিত্রদের জয় মহারাষ্ট্রের নগর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দেয়। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হল ঠাকরে ব্র্যান্ড দুর্বল হয়ে পড়া। মুম্বইতে, যেখানে ঠাকরে পরিবার গত ২৫ বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করেছিল, সেখানে বিজেপি এবং শিন্ডে গোষ্ঠীর উত্থান ঠাকরে দুর্গকে ভেঙে দিয়েছে। যুবসমাজ রাজ ঠাকরের “বহিরাগত বনাম স্থানীয়” রাজনীতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share