মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষে নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের (Police Recruitment) হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে নভেম্বরের মধ্যে আরও নয় হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োগের ঘোষণাও করেন তিনি ৷ তাঁর দাবি, দু’বছরের মধ্যে পুলিশের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশকে ছাপিয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ। এদিন তিনি জানান, আগের সরকারের তৈরি করা আইনি জটিলতা কাটিয়েই এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন বসিয়ে ওবিসি জট মুক্ত করেছে বর্তমান সরকার। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের আইনি বাধা কাটাতে সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। এদিন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার ডাক দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাষ্ট্র প্রথম, এটা মাথায় রেখে কাজ করবেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকে তাড়াবেন। সমস্ত অবৈধ কাজ থেকে দূরে থাকবেন।” বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চিন সীমান্তের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু একা আর্মি বিএসএফ লড়বে না। আপনাকেও প্রয়োজন হলে লড়তে হবে।”
নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কথা দিলাম আরও সাড়ে চার বছর এই সরকার আছে। কোথাও এতটুকু ত্রুটি হবে না। নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে।” রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চালানোর কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষে পুলিশের গড় ১৫৫ জন। উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা ২০০। আর পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম, মাত্র ১০৫ জন। এই ঘাটতি মেটাতে আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নয় হাজার নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারির ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের চার হাজার কনস্টেবল নিয়োগ সম্পন্ন হবে। পিএসসি-র মাধ্যমে ৬৫০ জন ক্লার্ক এবং ১ হাজার ১৩১ জন এসআই নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করা হবে।
রাজ্য পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি কথা দিয়ে গেলাম, পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশের উপরে যাবে। দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশের থেকেও পুলিশের সংখ্যায় বেশি থাকবে।” পুলিশ কর্মীদের বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরনো পুলিশ কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ২০ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুজোর আগেই তাঁরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর তাঁদের অগ্রিম বেতনও দেওয়া হবে। রাস্তায় কর্মরত পুলিশদের জন্য হিডকো এবং এনকেডিএ-র তহবিল থেকে ২০ হাজার রেনকোট, ছাতা ও গামবুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মীদের রেশন ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করতে প্রবীণ আইএএস অফিসার নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখে পুলিশকে আরও দক্ষ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ঘোষণাও করেন তিনি। আগামী দিনে অসমের লাচিত বরফুকান পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গুজরাটের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্য পুলিশের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে।

Leave a Reply