মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (Venezuela Crisis) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশের ‘অপহৃত’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে ভেনেজুয়েলার মানুষ সুরক্ষিত থাকেন।”
কী বললেন জয়শঙ্কর? (S Jaishankar)
জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক সব সময় ভালো। তাই ওই দেশটি নিশ্চয়ই সবসময় ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতাই আশা করে।” চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। ম্যানহাটানে ফেডারেল আদালতে হাজিরও করা হয় ওই দম্পতিকে। আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বক্তব্য শুরু করেন “আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” বলে (Venezuela Crisis)।
নির্দোষ, দাবি মাদুরোর
আদালতে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি নির্দোষ, দোষী নই এবং আমি একজন সৎ মানুষ।” বিচারকের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৈশ অভিযানে ভেনেজুয়েলার এবং কিউবা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। কিছু মার্কিন সৈনিকও জখম হয়েছেন (S Jaishankar)। জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের উদ্বেগ লিডারশিপ পরিবর্তনের নৈতিক দিক ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বার্থের জন্য যে কোনও পদক্ষেপে মানুষের কল্যাণই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত (Venezuela Crisis)।
মামলার পরবর্তী শুনানি
১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে (S Jaishankar)। এদিকে, নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সৃষ্ট প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে (Venezuela Crisis)। ওই দেশটির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে (S Jaishankar)।

Leave a Reply