Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

board of peace india attends as observer 9 nations pledge for gaza in trump's meeting

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পিস বোর্ডের (Board of Peace) উদ্বোধনী সভায় পর্যবেক্ষক দেশ (India Attends As Observer) হিসেবে যোগ দিল ভারত। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গড়া শান্তি পরিষদ (বোর্ড অফ পিস)-এর সদস্যেরা প্রথম বৈঠক করল। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন’টি সদস্যরাষ্ট্র— কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েতের তরফে বিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে মোট ৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ৬৩৭৪১ কোটি টাকা) অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। সদস্য এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে মোট ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনসি খাম্পা।

বোর্ডে নেই প্যালেস্টাইন

গাজার পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগেই গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড অফ পিস-এর (Board of Peace) সূচনা হয়েছিল। আমেরিকার তরফে ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে এই শান্তিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই আহ্বানে বেশ কিছু দেশ এখনও সাড়া দেয়নি। বোর্ডের সদস্য হিসাবে হিসেবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। প্যালেস্টাইন বোর্ডে আমন্ত্রণ না পাওয়াতেও প্রশ্ন উঠেছিল। এই আবহে বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের সূচনা হল বৃহস্পতিবার।

প্রথমে যোগ দেয়নি ভারত

যদিও প্রথম পর্যায়ে ভারত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত পিস বোর্ডে যোগ দেয়নি । গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ঘোষিত বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে রাষ্ট্র নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ২২ জানুয়ারি দাভোসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পিস বোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন। যদিও সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না ৷

পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যোগ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী । প্রায় ৫০টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছে। তবে জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য-সহ এক ডজনেরও বেশি দেশ বোর্ডে যোগ দেয়নি কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে।

সদস্য দেশ:

আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, মিশর, এল সালভাদর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

পর্যবেক্ষক দেশ:

ভারত, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

রাষ্ট্রসংঘকে ‘শক্তিশালী’ করার দাবি

দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum, Davos) গত মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘সবাই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে।’ শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, গাজা পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক সহায়তা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো হিসেবেও উঠে আসতে পারে এই বোর্ড। তবে, রাষ্ট্রসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তি গড়ার অভিযোগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে কাজ করব। ওদের সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজে লাগানো হয়নি। বোর্ড অব পিস রাষ্ট্রসংঘকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে।’ তাঁর দাবি, ‘কোনও দিন আমি থাকব না। তখন রাষ্ট্রসংঘ আরও শক্তিশালী হবে, আর বোর্ড অব পিস তার সঙ্গেই কাজ করবে। রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে আমরা অর্থও দেব।’

৯ দেশের ৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি

বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত—এই ৯টি দেশ গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্মিলিতভাবে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে জানান তিনি। যদিও এই অর্থ বরাদ্দের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ফলে ঘোষিত অর্থ মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

গাজায় নিরাপত্তা ও সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানান, গাজায় বড়সড় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও জনবল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহরে পুনর্গঠন শুরু হবে। মিশর ও জর্ডন পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতের বার্তা স্পষ্ট

দিল্লির তরফে এক সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল, আমেরিকার নতুন ‘বোর্ড অব পিসে’ (Board of Peace) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসেছে। আমরা প্রস্তাবটা রিভিউ করছি। ভারত সবসময় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করে।” সেই পর্যালোচনা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে হাজির রইল ভারত। প্রতিনিধিত্ব করলেন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা সি খাম্পা (Namgya C Khampa)। পূর্ণ সদস্য নয় কিন্তু আলোচনার টেবিলে ভারত অংশ নিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, “যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, কিন্তু ভারত বোর্ডটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এই বার্তা এখান থেকে স্পষ্ট।”

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share