Yashwant Verma: দিল্লির বাড়িতে মিলেছিল টাকার পাহাড়, অবশেষে ইস্তফা বিচারপতি ভর্মার

yashwant verma sends resignation letter to president murmur in delhi

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদীয় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা (Justice Yashwant Varma)। বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Justice Yashwant Varma Resignation) পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দিল্লিতে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে অবশেষে ইস্তফা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা। জানা গিয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তবে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ায় সেই প্রক্রিয়ার আর প্রয়োজন রইল না।

কেন বিতর্ক?

২০২৫ সালের ১৪ মার্চ দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় বিচারপতি ভর্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা সার্ভেন্ট কোয়ার্টারের পাশে একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেন। টাকার বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সঠিক অঙ্ক জানা যায়নি, তবে টাকার স্তূপ প্রায় দেড় ফুট উঁচু ছিল বলে জানা যায়। ঘটনার সময় বিচারপতি ভর্মা ও তাঁর স্ত্রী ভোপালে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তাঁর নয় এবং তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাঁকে দায়ী করা যায় না।

তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না-র কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে উদ্ধার হওয়া টাকার ছবি ও ভিডিওও সংযুক্ত ছিল। এরপর তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে কোনও বিচারিক কাজও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। যদিও বিচারপতি ভর্মা সেই কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হাজারো বিতর্কের মাঝে অবশেষে তিনি নিজে থেকেই বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

কী লেখা আছে পদত্যাগের চিঠিতে?

রাষ্ট্রপতিকে লেখা সংক্ষিপ্ত অথচ গম্ভীর চিঠিতে বিচারপতি ভার্মা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি লিখেছেন, “কেন আমি এই পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য হলাম, সেই কারণগুলো জানিয়ে আপনার দফতরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। তবে অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে আমি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।”

 

 

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share