তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। প্রখর রোদে দিনে নাজেহাল বঙ্গবাসী। শিশু থেকে বয়স্ক, এই আবহাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অস্বস্তি বাড়ছে। তারমধ্যেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে হাম সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। রুবেলা ভাইরাসের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং শক্তি বৃদ্ধি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষত শিশুদের জন্য এই রোগ বেশি উদ্বেগের। তাই এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
গরমে কি বাড়তে পারে হাম?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে রুবেলা ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লেই যে এই ভাইরাস অধিক সক্রিয় হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু চলতি বছরে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে শিশুদের শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে জলের অভাব হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই রুবেলার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া বছরের এই সময়ে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল থেকে সহজেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আবার গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকেই একসঙ্গে একটি ঘরে এসি চালিয়ে থাকে। বন্ধ ঘর থেকে যেকোনও রোগের সংক্রমণ সহজেই হয়। তাই চলতি বছরে এই সময়ে রুবেলা ভাইরাসের দাপট বেশি দেখা দিচ্ছে।
শিশুকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। ঠিকমতো টিকা করণ হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এরপরেও কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, হাত থেকেই অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই খাওয়ার আগে ও পরে ঠিকমতো হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শিশুর হাত পরিষ্কার রয়েছে কিনা সেটা দেখা দরকার।
অসুস্থ শিশুকে আইসোলেট করা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাঁচি-কাশি এবং জ্বর হলে, তাকে স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। ভিড় জায়গাতেও নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার আক্রান্ত শিশুর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শিশুর ব্যবহৃত জিনিস যেমন জামা কাপড়, রুমাল, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই ধরনের জিনিস থেকেই রুবেলার মতো ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাই শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। বিশেষত রুবেলার মতো ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে শিশুকে নিয়মিত প্রোটিন এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শিশুকে নিয়মিত শাক, পটল, কুমড়ো, পেঁপে, গাজর, টমেটোর মতো সব্জি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁরা শিশুদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, পনীর এবং দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টিকাকরণ না হলে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের ভোগান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মেনে শিশুদের ন’মাস এবং ১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। সেই বয়সে টিকা অবশ্যই দিতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কোনো ভাবে নির্দিষ্ট বয়সে টিকা করণ না হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকা কবে দেওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবেই এই সংক্রমণের ঝুঁকি সহজে এড়ানো যাবে।

Leave a Reply