Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

suvendu-adhikari-pa-new-twist-in-probe-into-mysterious-death-of-suvendu-adhikaris-personal-assistant-second-bike-recovered-red-car-traced

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্তসহায়ক এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) হত্যার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তে এবার একটি লাল রঙের গাড়ি এবং আরও একটি মোটরসাইকেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি (Suvendu Adhikari PA)

চন্দ্রনাথ হত্যার (Chandranath Rath) তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় একটি লাল রঙের গাড়িকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি, পুলিশ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি নিছক কোনও হত্যা নয়। এর পেছনে বড় কারণ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের (Suvendu Adhikari PA) হত্যা কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তাই এখন সন্ধান করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

খুনের মামলা রুজু

বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তাঁকে পর পর গুলি করে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু (Suvendu Adhikari PA) করে তদন্ত শুরু করে। সেদিন রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি গাড়ির চালক।

তদন্তে যা পাওয়া গেছে

  • সন্দেহভাজন লাল গাড়ি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি লাল রঙের গাড়িকে দ্রুতবেগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই লাল গাড়ির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
  • বাইক উদ্ধার: প্রথম থেকেই একটি মোটরসাইকেলের কথা জানা থাকলেও, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বাইকটি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ওই বাইকটি কার এবং কেন সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • নিসান গাড়ি কারা কিনতে চেয়েছিল: ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাইক্রা গাড়িটিকে বেচতে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। কারা যোগাযোগ করেছিল গাড়ির মালিকের সঙ্গে, তাঁদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল খুনিদের?

তদন্তে ভিনরাজ্যে পাড়ি পুলিশের একটি দলের

বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করা হয়। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। সেই সঙ্গে রয়েছেন বারাসত পুলিশের সদস্যেরা। তদন্তকারী টিমে রয়েছেন এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার আগের আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় ইনপুট নিচ্ছেন তদন্তকারীরা, খবর পুলিশ সূত্রে। আততায়ীদের খোঁজে একটি দল ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

কল রেকর্ড ও সিসিটিভি

চন্দ্রনাথবাবুর (Chandranath Rath) মোবাইল ফোনের শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের (Suvendu Adhikari PA) পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মূল অপরাধীদের ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

একমাস আগেই কি খুনের পরিকল্পনা?

সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে খুন। আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আর তাই মাসখানেক আগে থেকেই কার কার সঙ্গে চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) বচসা হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনা কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হতে পারে, এই দিকগুলিও সন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভবানীপুরে হারের বদলার জেরে খুন চন্দ্রকান্ত?

চন্দ্রনাথকে (Chandranath Rath) খুনের পর বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। গাড়ির মালিক শিলিগুড়িতে থাকেন। বিক্রি করার জন্য গাড়ির নম্বর দিয়েছিলেন অনলাইনে। গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আততায়ীরা গ্লাভস পরে ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হত্যাকারীরা বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। এখন বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ভবানীপুর হারের বদলা বলে মনে করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খুনের পিছনে রয়েছে বলে রাজনীতির একাংশের মানুষের দাবি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share