PM Modi Sweden Visit: বিশ্বকবির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উপহার বিনিময় মোদি-ক্রিস্টারসনের, সামনে এল ১০০ বছরের ইতিহাস

pm-modi-sweden-visit-tagore-legacy-gift-exchange--ulf-kristersson-bilateral-talks

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে বিশেষ উপহার বিনিময় করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। রবিবার সুইডেনে পৌঁছনোর পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই প্রতীকী উপহার বিনিময় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সুইডেন সফরের শতবর্ষও উদযাপিত হচ্ছে।

কী উপহার পেলেন নরেন্দ্র মোদি?

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা দুটি এপিগ্রামের (সংক্ষিপ্ত কাব্যপংক্তি) প্রতিলিপি। এর সঙ্গে ছিল একটি ব্যাখ্যামূলক নোট এবং ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় সফরের সময় তোলা একটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই মূল নথিগুলি সম্প্রতি সুইডিশ ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি রবীন্দ্রনাথের ১৯২১ এবং ১৯২৬ সালের সুইডেন সফরের সময় রচিত।

কী উপহার দিলেন নরেন্দ্র মোদি?

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনাবলীর একটি বিশেষ সংকলন। সঙ্গে ছিল শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের হাতে তৈরি একটি কারুকার্যখচিত ব্যাগ, যার নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে সেইসব মোটিফ যা রবীন্দ্রনাথ নিজে স্থানীয় কারিগরদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বেছে নিয়েছিলেন।

কবিগুরুর সুইডেন সফর…

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যাগটি রবীন্দ্রনাথের সেই দর্শনের প্রতীক, যেখানে শিল্পকে শুধুমাত্র গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্পচর্চা এবং ব্যবহারিক জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধনই ছিল তাঁর ভাবনার মূল ভিত্তি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যক্তিগত কারণে সুইডেনে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে সুইডেন সফরকালে তাঁকে রাজা পঞ্চম গুস্তাভ অভ্যর্থনা জানান। সেই সফরই ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

উপহার বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফর কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিনের সফরে তিনি সুইডেনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানগুলির অন্যতম ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’-এ ভূষিত হন। ভারত-সুইডেন সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল-স্তরের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উদীয়মান প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, গ্রিন ট্রানজিশন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৭.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুই পক্ষই আশাবাদী।

রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক কূটনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে এই সাংস্কৃতিক কূটনীতি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং ভারত-সুইডেন সম্পর্ককে মানবিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিতেও আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। মোদির এই সফর প্রমাণ করল, কূটনীতির ভাষা শুধু বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা নয়—সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সাহিত্যও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share