BSF Border Fencing: ‘দেশ আগে’! বিএসএফের বেড়া নির্মাণে স্বেচ্ছায় জমি দান কোচবিহারের ৩ পরিবারের

infiltration in west bengal sir and fall of mamata govt brings 900 cr business of illegal immigration of bangladeshis into india crack down

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এক অভিনব উদ্যোগের সাক্ষী থাকল কোচবিহার জেলা। সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য নিজেদের জমির একটি অংশ স্বেচ্ছায় দান করলেন জেলার তিন বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে পর্যাপ্ত বেড়া না থাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, গবাদি পশু চুরি এবং কৃষিজমির ক্ষতির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজ্যে সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগের মধ্যেই এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জমি দান

জমিদাতাদের অন্যতম বিকাশ রায় সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, গ্রামের কল্যাণ এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁদের পরিবার জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হলে অনুপ্রবেশ অনেকটাই বন্ধ হবে। এতে শুধু আমাদের গ্রাম নয়, গোটা দেশই আরও নিরাপদ হবে।’’ বিকাশ রায় জানান, তাঁর পরিবার প্রায় ০.২ একর জমি এই প্রকল্পের জন্য দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘অতীতে সীমান্তে বেড়া না থাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে বহু মানুষ রাতের অন্ধকারে এলাকায় ঢুকে পড়ত। গবাদি পশু চুরি, বিভিন্ন সামগ্রী লুট এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রায়শই ঘটত।’’ তাঁর মতে, সরকারের এই উদ্যোগ গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া চলছে

জমির বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিকাশ রায় জানান, এখনও অর্থ হাতে না পেলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। জমির জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধুমাত্র সীমান্ত সুরক্ষাই বাড়াবে না, কৃষকদেরও উপকৃত করবে। কারণ সীমান্তবর্তী বহু কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

দ্রুত বেড়া নির্মাণের দাবি

জমিদাতাদের এক আত্মীয় হৃদয় বর্মন সরকারের কাছে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে তাঁরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করবেন।’’ হৃদয় বর্মনের অভিযোগ, কাঁটাতারের অভাবে এলাকায় ব্যাপক হারে চুরি এবং চোরাচালান চলেছে। সীমান্ত পেরিয়ে লোকজন অবাধে যাতায়াত করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর মতে, বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে কৃষক ও সীমান্তবাসীদের জীবন অনেক বেশি নিরাপদ হবে।

সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বড় পদক্ষেপ

গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফের আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২৮ মে ২০২৬ বিএসএফের হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১ মে ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের ৪৫ দিনের মধ্যে মোট ৬০০ একর জমি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে এই জমি হস্তান্তর ও অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা

কোচবিহারের এই তিন বাসিন্দার জমি দানের ঘটনাকে সীমান্তবাসীরা দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা, দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কমবে, কৃষিজমি সুরক্ষিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর ধরে যে সমস্যাগুলি সীমান্তবাসীদের নিত্যসঙ্গী ছিল, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তার বড় অংশেরই সমাধান সম্ভব হবে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও নতুন গতি পাবে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share