Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

nirav-modi-extradition-india-europe-legal-options-exhausted

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share