Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

baruipur incident cm suvendu adhikari gives 25 lakh to the family of the boy talks about kamduni

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে (Baruipur Incident) নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের বাড়িতেও শনিবার যান মুখ্যমন্ত্রী৷ গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছে সরকার। তবে সেখানে কোনও আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে কি না, কী ভাবে পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, তা খোলসা করতে চাননি। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তা পরিবার জানাবে।

নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মেনে পুলিশ ফাঁড়ি

শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই পুলিশ ফাঁড়ির আবেদন জানিয়েছিল। চার দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত করা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনাতেই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সূর্যপুর থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে একটি একরত্তি মেয়েকে যে ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে, পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চার জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেউ কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্তও পালিয়ে গিয়েছিল। ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ভাল কাজ করেছে। বাকি যা ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। আমি কিছু বলব না।’’

কামদুনির নির্যাতিতার পাশে সরকার

বারুইপুরে ঘটনায় সুবিচারের আশ্বাস দেওয়ার মাঝেই ফের কামদুণি কাণ্ড নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করা হবে, জানালেন তিনি৷ কামদুনির বিচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকার সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করবে৷ এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে৷ কারণ আদালতের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না৷ বারাসাত আদালতের রায়কে বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালতে এতদিন রাজ্য সরকার বিরোধিতা করেছিল৷ কিন্তু এবার আর রাজ্য বিরোধিতা করবে না৷’’

তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ

পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘এসব ক্ষেত্রে সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না৷ ছোট ঘটনা বলবে না, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না, মহিলা অন্ত:স্বত্তা বলবে না, ১০ লক্ষ দেওয়া যেতেই পারে, এমন কথা কেউ বলবে না৷’’ শনিবার সকাল ১১টা বেজে ৩২ মিনিট নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিশোরীর বাবা-মায়েরা সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলেন শুভেন্দু৷ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি পরিবারকে বলে এসেছি, দোষীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কনভিকশন হবে। সরকারের তরফে আমাদের কিছু দায়িত্ব ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেটা আমি বলব না। পরিবার চাইলে বলবে।’’

গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু

এদিন ১১টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ তিনি যান, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে৷ সেখানেও তাঁর বাবা-মায়েরা সঙ্গে কথা কথা বলেন তিনি৷ পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তাঁদের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে৷ সূর্যপুরের আউটপোস্টে তাঁর পোস্টিং হয়েছে৷ এই সব কিছুর জন্য পুলিশ এবং জেলাশাসকের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন শুভেন্দু ৷ বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োতে যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ নিহত ইন্দ্রজিতের দাদাকে সূর্যপুরের পুলিশ ফাঁড়িতেই সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। ওই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তাঁদের বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্য ভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ছেলেটাকে তো আমরা ফেরাতে পারব না। তবে এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রের খুনিরা আইন অনুযায়ী চরম শাস্তি পাবে।’’

ভয়ের কারণ নেই, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। পুলিশকে মারধর এবং রেল অবরোধের ঘটনায় পৃথক মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় ধরপাকড় চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের কাছে স্থানীয়েরা অনেকেই তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। শুভেন্দুকে শনিবার সে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেললাইনের ক্ষতি করেছেন যাঁরা, তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁদের শাস্তি পেতে হবে। তবে নিরীহ কেউ যাতে পুলিশি হেনস্থার শিকার না-হন, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘খুনি, ধর্ষক, ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক। বাকিদের ভয়ের কারণ নেই।’’

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share