One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

one nation one election during 2029 lok sabha poll modi govt plans to hold assembly elections for 22 nda-ruled states

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share