মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোট (Municipal Election)। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাগুলোর ভোট (State Election Commission)। পুরভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, বুধবার সমস্ত জেলা শাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হবে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং আর কালিম্পং পুরসভায়। রাজ্য় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ইভিএম-এই হবে পুরভোট। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ওয়েব কাস্টিংয়ের।
পালাবদলের পর প্রথমবার ভোট রাজ্য়ে
বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর প্রথমবার কোনও ভোট হতে চলেছে রাজ্য়ে। অর্থাৎ শক্তি পরীক্ষায় নামবে সব দল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভার ভোট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ৬ মাস অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত কর্পোরেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই আমাদের কাজ। ওয়ার্ড পুর্নবিন্য়াসের ফলে এবার একাধিক পুরসভায় বেশি আসনে ভোট হবে। অর্থাৎ লড়াই আরও টানটান।
প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে ভোটের সম্ভাবনা
রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হতে পারে,কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং, কালিম্পং পুরসভায়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হবে। রেজাল্ট বেরনো সমেত পুরো ভোট পক্রিয়া হয়ে যাবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্য়ে। ১ জুলাই প্রকাশিত ইলেক্টোরাল রোল অনুযায়ী পুরভোট হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। পুজোর পর ভোট উৎসবের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রস্তুতি শুরু করতে বুধবার রাজ্যের পুরসভা এবং পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যেখানে নির্বাচন হবে সেখানে এই মুহূর্তে কী পরিস্থিতি রয়েছে? ইভিএম থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠক বলেই সূত্রের খবর। অন্যদিকে ইভিএম-সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দ্রুত শুনানি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে।
ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই ভোট
বহু পুরসভার নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন পুরভোটের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে ঘিরে। কারণ, দুই পুর এলাকারই প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, আগের তুলনায় ৬৫টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্য দিকে, হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে বেড়েছে ১৮টি ওয়ার্ড। ফলে দুই পুর এলাকার আসন্ন নির্বাচন এবার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই হওয়ার কথা। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের বিন্যাস, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার নির্বাচনী মানচিত্রে এই পুনর্বিন্যাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র বাড়বে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব রয়েছে। তাই আগেভাগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সেই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে৷ আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের দাবি, হাইকোর্টে একাধিক ইলেকশন পিটিশন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই সমস্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএম মেশিন, ভিভিপ্যাট-সহ অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে ইভিএমের অভাবে পুরনির্বাচন ঘোষণা করতে দেরি হয়ে যেতে পারে।
ত্রিস্তরীয় ফর্মুলায় পুরভোটে বিজেপির ছক
ত্রিস্তরীয় ফর্মুলা মেনেই কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবে বিজেপি— মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিলেন কেএমসি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বঙ্গ বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিন মাস আগে যে ভাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কাজ করে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল বিজেপির প্রদেশ শাখা, ঠিক সেই ভাবেই এ বারও কলকাতা পুরভোটের আগে কাজ শুরু করে দিয়েছে দল, জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত। তাঁর দাবি, ‘আমাদের দলের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে ৷ সেই পদ্ধতি অনুসারে আমরা পর পর কাজ করে যাচ্ছি৷ বিজেপির নিয়ম নীতি মেনে প্রথমে কিছু সাংগঠনিক কাজ করা হচ্ছে। তার পরে রাজনৈতিক কিছু কাজ করব। তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ে নির্বাচনে বা ভোটে লড়াই করার মূল কাজের দিকে যাব। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে৷’
বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না
সুকান্তের স্পষ্ট বার্তা, ‘কোনও ভাবেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। বিজেপি বিজেপিই থাকবে৷’ পুরভোটের আগে বিজেপির তরফে সংকল্প পত্রও প্রকাশ করা হবে যেখানে আগামীর রূপরেখা সবিস্তারে উল্লেখ করা হবে। এই মর্মেই কেএমসি ভোটের ইনচার্জ সুকান্তর দাবি, তৃণমূল সরকারের কার্যকালে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলি তুলে ধরে একটি চার্জশিটও পেশ করবে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী বলেন, আগামী পুরসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস অভাবনীয় ফলাফল করবে।

Leave a Reply