Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

mahalaya-2026-suvendu-adhikari- updates

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করে তুলে ধরতে মহালয়ার দিন বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। শনিবার কলকাতার রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত খোলা জিপে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে রেড রোডে আয়োজিত পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। বাংলার লোকসংস্কৃতি, নাচ-গান, কয়েক হাজার ঢাকির বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ আলোক প্রদর্শনীতে উঠে আসে দেবী দুর্গার আগমনের ছবি (Mahalaya 2026)। ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রবিবার থেকেই পুজো কমিটিগুলি অনুদান বাবদ এক লাখ টাকা করে পেতে শুরু করবে।

এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ রেড রোড থেকে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর খোলা জিপে শোভাযাত্রা। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বাংলার বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ছৌ নাচ, বাউল গান, ভাওয়াইয়া-সহ নানা লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

ড্রোনের আলোয় দেবীর আগমনী (Suvendu Adhikari)

ইডেন গার্ডেন্সে কয়েক হাজার ঢাকির একযোগে ঢাক বাজানো এবং শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এরপর আকাশে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনীতে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গার আগমনের নানান দৃশ্য। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বাংলায় এই ধরনের ড্রোন প্রদর্শনী নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীদের পুজোর গান পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়।

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান

ইডেন গার্ডেন্সের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রবিবার থেকেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু হবে। প্রতিটি পুজো কমিটি এক লাখ টাকা করে অনুদান পাবে। নতুন পুজো কমিটিগুলিকেও অনুদান দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪০০-রও বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ

মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব আজ বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে।” দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পিতৃপক্ষের পরিবর্তে মাতৃপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মহালয়ার সকালে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে তর্পণের পাশাপাশি মহিষাসুরমর্দিনী শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার জন্য রাজ্যপালকেও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আগামী চার দিন ধরে মালদহ, দিঘা, দুর্গাপুর, কোচবিহার, বিষ্ণুপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। ষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিসর্জনেও বাংলার ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন

দুর্গাপুজোর বিসর্জন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে সকলকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এবারের দুর্গাপুজো সকলের কাছে মধুময় হয়ে উঠুক।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে (Mahalaya 2026) ধরেন তিনি।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share