মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম ৬ জমা (ECI Form 6) দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্ক কাটাতে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে বিক্ষোভের আবহে ফর্ম ৬ নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফর্ম ৬ জমা দিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আগে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল কি না সেই বিষয়টি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
কী বলা হল নয়া নির্দেশিকায়
নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কমিশনের নজরে এসেছে, বহু পুরনো ভোটার, যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই ফর্মটিতে প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ঘোষণা করতে হয়। তাই অনেকেরই ধারণা যে পুরনো নাম থাকা সত্ত্বেও ফর্ম ৬ জমা দিলে তা ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর জেরে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। এই বিতর্ক ও আশঙ্কা দূর করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকায় নাম না থাকা ভোটাররা নতুন করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিলে তা কোনওভাবেই ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ বলে গণ্য হবে না। ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
আইনি সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা
কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়েছিল আবেদনকারী আগে ভোটার হয়ে থাকলেও ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। এ নিয়ে আশঙ্কা করার কোনও ভিত্তি নেই। কমিশনের আরও বক্তব্য, আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি অতীতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া বা তার পরে যদি নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেন তবে সংশ্লিষ্ট ইআরও সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

Leave a Reply