Voter ID for Panchayat: পঞ্চায়েতের কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার নয়, এবার ভোটার কার্ড! সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই

Voter ID for Panchayat

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ এলাকার কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। এবার থেকে আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার পরিচয়পত্র বা EPIC-কে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান নথি হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ভোটার কার্ড (Voter ID for Panchayat) থাকলেই হবে না, আর্থিক সুবিধা ও সরকারি অনুদান পেতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বায়োমেট্রিক যাচাইও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ প্রয়োজন হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই দ্বৈত যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।

আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ড কেন?

নতুন ব্যবস্থার পিছনে পরিচয় যাচাইয়ের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। দ্রুত নথি তৈরি বা পরিচয় সংক্রান্ত অনিয়মের সম্ভাবনা রুখতে আরও শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। ভোটার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে শারীরিক বায়োমেট্রিক যাচাই যুক্ত হলে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশজুড়ে নতুন করে চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা (PM VGSY)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযানকে প্রতিস্থাপন করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পে জোর

পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক সরাসরি কৃষি বা আবাসন প্রকল্পের মতো নগদ আর্থিক অনুদান প্রদানকারী মন্ত্রক না হলেও গ্রামীণ প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা এবং স্বামিত্ব (SVAMITVA) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বামিত্ব প্রকল্পের আওতায় ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রামের বসতবাড়ি ও জমির মানচিত্র তৈরি করে বাসিন্দাদের সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জমি সংক্রান্ত বিবাদ কমার পাশাপাশি নিজেদের সম্পত্তির ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা বা জিপিডিপি-র মাধ্যমে পানীয় জল, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তার আলো-সহ বিভিন্ন স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি eGramSwaraj এবং PANCHAM-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কাজকর্মের স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বচ্ছতা বাড়ানোই লক্ষ্য, কবে থেকে কার্যকর?

কেন্দ্রের দাবি, ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ যুক্ত হলে গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের তথ্যভাণ্ডার আরও নির্ভুল ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। nএদিকে, গ্রামীণ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর উপরেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে নতুন পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য এই সংক্রান্ত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share