Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

amit shah attacks rahul said bjp is ready for special session on 'vote theft' or sir issues but opposition not interested

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার লখনউয়ে দলীয় কর্মীদের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Rahul)। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলেও খারিজ করেছেন তিনি। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “সংসদের ভিতরে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। আমরা কিছু লুকোতে চাই না। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। কিন্তু বিরোধীরা সেখানে আলোচনা করতে চায় না। তারা সংসদ চলতে দেয় না, বরং হইচই করে।”

আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে

বিজেপির একাধিক নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তারা নির্বাচনে জিততে পারছে না। তাঁর কথায়, “কোনও দল বা টিম ম্যাচে হারলে তাদের আরও অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তারা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বলছে, ভোট চুরি হয়েছে।” অন্যদিকে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলাই লক্ষ্য

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার লখনউয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণও শানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরোধী শিবির ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ সংসদে বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। জানান, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত তিনি। তবে তার পরেই বলেন, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

শাহী নিশানায় অখিলেশও

শুধু রাহুল নন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল এবং অখিলেশকে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে সংসদের ভিতরে আলোচনার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ওঁরা (বিরোধী) আলোচনা চান না, চান রাস্তায় নাটক করতে।’’উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে রবিবারের মিছিলে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইয়ের অংশ।

কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস

রাহুলের অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লি প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে আসতে না পারে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। তবে সভায় আসা মানুষকে আটকানোর অভিযোগের পালটা বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন উনি। কাকে, কোথায়, কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস।”

৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে মোট ১৩.৩৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ এবং ‘একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না অখিলেশেরা। অখিলেশকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আপনারা নিজের চেষ্টায় একটা নির্বাচনও জিততে পারেননি। রাহুল বাবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’’

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত

এদিকে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share