Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

drug regulator warning frequent use of painkiller antibiotic may raise kidney risks

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বারবার ব্যথার ওষুধ নৈব নৈব চ! সর্দি-কাশি, পেটের কমপ্লেন পটাপট অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকুন। নইলে ক্ষতি হতে পারে কিডনির। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। সিডিএসসিও-এর জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ (NSAIDs) এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, বারবার বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার এড়ানোর পরামর্শ (Drug Regulator Warning) দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তাই সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেওয়া বা আগের প্রেসক্রিপশনের অব্যবহৃত ওষুধ পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।

কিডনির রোগীদের বিশেষ সতর্কতা

যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শরীরে জলশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতি থাকলে ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা

অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট অসুখের ক্ষেত্রেই কাজ করে ভাইরাস বাহিত অসুখে নয়! অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ খেয়ে নেন অনেকে। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু তাই না বরং অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবনের ফলে শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত খেলে শরীরে একটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রয়োজনেও কাজ করা বন্ধ করে দেয় । অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে দেখা যায় ওষুধগুলি পাচক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলছে। বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিকমতো না নেওয়ার ফলে বা ভুল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ইনফেকশনের পরে পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা । বারবার মলত্যাগের বেগ পাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

ব্যথার ওষুধে সমস্যা

অসহ্য ব্যথায় ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু মাথাব্যথা একটু হল কি হল না, তাতে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকের। এ কাজ ঠিক নয়। তাতে উল্টে বিপদ ঘটতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল। খোলা বাজারে যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রধান হল এনসেড বা নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ৷ যেমন ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি৷ ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহও কমায় বলে এই সব ওষুধে চটজল্দি কাজ হয়৷ অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা কমালেও, প্রদাহ কমাতে পারে না। তা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও কার্যকারিতা এনসেড-এর চেয়ে কম৷ এ বার আসা যাক ক্ষতির কথায়৷ এনসেড গোত্রের ওষুধ পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে৷ বদহজম, পেটব্যথার মতো সমস্যা হয়৷ কারও কারও গ্যাসট্রাইটিস হয়৷ আলসার এবং পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ নিয়মিত ডাইক্লোফেনাক খেলে কারও কারও হার্ট ও রক্তনালির অসুখ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে৷ বয়স যাঁদের ৬৫-র বেশি, ব্যথার ওষুধ থেকে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকদের জন্যও নির্দেশিকা

চিকিৎসকদের শুধুমাত্র চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন থাকলেই ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলতি ওষুধ এবং কিডনি-সহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য জীবাণু, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার, ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাওয়া এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে সতর্কতা

ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদেরও প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে সিডিউল এইচ এবং এইচ ১-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের মাধ্যমে স্ব-চিকিৎসাকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং রোগীদের সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ওষুধগুলির নির্বিচার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share