Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

Noida Violence

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ (Noida Violence) ছিল একটি “পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্র”। এমনই দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। নয়ডায় যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সীমান্তপারের চক্রান্ত। পুলিশের মতে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত দুটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বাইরের কিছু শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হাইজ্যাক করে।

পাক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর

পুলিশ কমিশনার বলেন, “বর্তমানে নয়ডায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গত দু’দিন ধরে শান্তি বজায় রয়েছে। পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ ও পিকেটিং করেছে, সব শিল্প ইউনিট খুলেছে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।” উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন বলে জানান কমিশনার। তবে গত, ১৩ এপ্রিল একদল ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরেই দুটি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে পুলিশের গুলিতে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়। তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

কীভাবে ছড়ানো হয়েছিল বিক্ষোভ

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনজন মূল ষড়যন্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে—রূপেশ রাই, মনীষা চৌহান এবং আদিত্য আনন্দ। এদের মধ্যে রাই ও চৌহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আদিত্য আনন্দ পলাতক। পুলিশের দাবি, এই তিনজন শুধু নয়ডায় উপস্থিতই ছিলেন না, বরং শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে ভিড়কে হিংসাত্মক করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোডের মাধ্যমে মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ১০ এপ্রিল বিক্ষোভ শুরু হয়, ১১ এপ্রিল রাস্তায় অবরোধ হয় এবং ১৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় শ্রমিক নন, বরং বাইরের লোক। তদন্তে সহায়তা করছে ইন্টেলিজেন্স বুরো এবং অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়ডার শিল্পাঞ্চল, বিশেষত ফেজ-২ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসার দিকে ঠেলে দেয়।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share