মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়াকে লক্ষ্য করে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ২০২৫ সালে লাল কেল্লায় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা লখনউয়ের (Blast in Lucknow) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনবহুল এলাকায় গোপনে রেকি চালিয়ে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি হামলার পরিকল্পনা করছিল।
কীভাবে হামলার পরিকল্পনা
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মুজাম্মিল শাকিল অনলাইনে লখনউয়ের বিভিন্ন রাসায়নিক দোকানের খোঁজ করছিলেন, যেখান থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (TATP) তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব। অত্যন্ত শক্তিশালী ও অস্থিতিশীল এই বিস্ফোরককে “মাদার অফ স্যাটান” নামেও ডাকা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort Blast Case) কাছে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল, তাতেও এই বিস্ফোরকই ব্যবহার করা হয়েছিল। এনআইএ আরও জানিয়েছে, শাহিন সঈদ মুজাম্মিলের নির্দেশে সম্ভাব্য রাসায়নিক সরবরাহকারীদের একটি হাতে লেখা তালিকা তৈরি করেছিলেন। পরে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন থেকে সেই নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি বড়সড় নাশকতার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
কোথায় কোথায় হামলার ছক
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৫ থেকে ৩০ অগাস্টের মধ্যে মুজাম্মিল ও শাহিন ফরিদাবাদ থেকে লখনউয়ে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রেকি চালান। অভিযুক্তরা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন, আমিনাবাদ, লালবাগ এবং ঐতিহাসিক বড়া ইমামবাড়া চত্বরে ঘোরাফেরা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসমাগম খতিয়ে দেখেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ওরা বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ব্যবহার করে এই ভবনগুলির কাছে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। জনবহুল এলাকা ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।”
আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে
এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তথ্যগুলি ১৪ মে এনআইএ-র জমা দেওয়া প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, লখনউয়ের এই রেকি আসলে বৃহত্তর জঙ্গি চক্রের অংশ, যা আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত বহু-শহরভিত্তিক নাশকতা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল একদল চরমপন্থায় প্রভাবিত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, যাদের মধ্যে চিকিৎসকরাও ছিলেন।

Leave a Reply