মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) শুনানির সময়সীমা ১ সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার রাজ্যের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার এই পর্বের (SIR in Bengal) সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যের অন্তত ৭-৮টি জেলায় শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে শুনানির সময় আরও একসপ্তাহ বৃদ্ধি করার আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, সেই আর্জিকে মান্যতা দিল কমিশন। এর ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
কেন মেয়াদ বৃদ্ধি
জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৭-৮টি জেলার অন্তত ১৫-২০টি বিধানসভায় শুনানির কাজ বাকি। এদিন সেকথা জানিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় শুনানির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। মাত্র ৩-৪ শতাংশ শুনানির কাজ এখনও বাকি।’ কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি এখনও চলবে? প্রশ্নের জবাবে সিইও আরও স্পষ্ট করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭টি, কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কার্শিয়াংয়ের একটি করে বিধানসভায় শুনানি সম্পূর্ণ শেষ করা যায়নি বলে তাঁকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার ডিইও তথা জেলাশাসকরা। এছাড়া নথি আপলোডের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। ৭০ শতাংশ নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন। তাই শেষ মুহূর্তে কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হল।
রাজ্যের ডিজিপিকে শোকজ সর্বোচ্চ আদালতের
সোমবার রাজ্যের ডিজিপি (DGP) পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে সর্বোচ্চ আদালত। এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে কমিশনের প্রতিনিধিদের নূন্যতম নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় পুলিশ কোনও সহযোগিতা করছে না, উলটে বহু জায়গায় ‘ফর্ম ৭’ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিশন নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। শুনানি কেন্দ্রে হামলার ঘটনা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি সাফ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকার ও ডিজিপি-র।’ কেন নির্বাচন আধিকারিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্বচ্ছ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Reply