Suvendu Adhikari: মমতাকে আর বিদেশ সফরের অনুমতি নয়, জয়শঙ্করকে চিঠি শুভেন্দুর

Subhendu adhikari writes to S jaishankar asking mamata banerjee not to allow to travel foreign

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর যাতে সরকারি সফরে বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়া না হয়, সেজন্য আমি বিদেশমন্ত্রীকে (S Jaishankar) অনুরোধ করেছি।” শুক্রবার কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। লন্ডন সফরে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য পেশ করেছেন, তাকে ‘দেশ ও জাতীয়তাবাদী বিরোধী’ বলে দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু। সেই কারণেই বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান শুভেন্দু।

জয়শঙ্করকে চিঠি (Suvendu Adhikari)

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি জয়শঙ্করজিকে একটা চিঠি লিখেছি। ভারত সরকারের অনুমোদন নিয়ে হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় উনি যেভাবে ভারতকে ছোট করেছেন, সেই প্রসঙ্গে। সাংবাদিক যখন বলছেন, ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে যাবে, তখন উনি বলছেন, না, না, আমি মানি না। উনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছেন, না ভারতকে ছোট করতে গিয়েছেন?” এর পরেই শুভেন্দু বলেন, “আমি জয়শঙ্করজিকে বলেছি ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে আপনার। আপনি ব্যবস্থা নিন। আর এর পরে আর ওঁকে অনুমতি দেবেন না।”

মমতাকে নিশানা

মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “এছাড়াও, ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনকে উনি দারুনভাবে গ্লোরিফাই করেছেন। আমার বাড়ির লোক ব্রিটিশের জেলে ছিল। বিপিন অধিকারী। আমি সেটা মেনে নেব না কি আমরা তো মেদিনীপুর স্বাধীন করে দিয়েছিলাম ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার করেছিলাম। আমরা পাঁচ বছর আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি। আর আপনি গিয়ে বললেন, ব্রিটিশরা ১৯০ বছর ধরে অনেক কিছু করে দিয়ে গিয়েছে!”

বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন

রাজ্যের বিরোধী দলনেতার (Suvendu Adhikari) প্রশ্ন, “ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদানের মূল্য নেই যে মাটিতে বন্দে মাতরম তৈরি (S Jaishankar) হয়েছে, যে মাটি জাতীয় সঙ্গীত দিয়েছে, সেই মাটি থেকে গিয়ে আপনি ব্রিটিশের প্রশংসা করছেন?” তিনি বলেন, “কালাপানিতে যাঁরা অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বাঙালি ছিলেন। একটা দেশবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, জাতীয়তাবাদ বিরোধী, স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধী মানুষ। ওঁর বিরুদ্ধে সর্বত্র দেশপ্রেমিকদের আন্দোলনে নামা উচিত।”

মমতার ব্রিটেন-প্রেম!

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তৃতার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “আমি ব্রিটেনকে ভালোবাসি। কারণ আমাদের মধ্যে একটি আবেগগত সম্পর্ক রয়েছে, একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে…ঐতিহ্যের দিক থেকে আমাদের ও তোমাদের।” তিনি বলেন, “১৯০ বছর ধরে তোমরা ভারত শাসন করেছ, আর বাংলা শাসন করেছ…আমরা কি তা ভুলে যাব ভারত তোমাদের সব সময় মনে রাখে, আর বাংলাও তোমাদের মনে রাখে (S Jaishankar)।”

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগকে অবজ্ঞা!

শুভেন্দুর অভিযোগ, “লন্ডনে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য দেশের ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি অতিরিক্ত প্রশংসার প্রতিফলন ঘটায়।” তিনি এই ধরনের মন্তব্যকে একজন বাঙালির জন্য ‘অচিন্ত্যনীয়’ বলেও অভিহিত করেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ শাসন প্রতিরোধে বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।” তিনি যুক্তি দেন, ঔপনিবেশিক অতীতকে মহিমান্বিত করা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগকে অবজ্ঞা করার সমতুল।

বিদেশের মাটিতে ভারতের সুনাম নষ্ট

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে কেলগ কলেজ। সেখানেই বক্তৃতা দিতে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই বক্তৃতায় তিনি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ করেন নন্দীগ্রামের পদ্ম-বিধায়ক। শুভেন্দু বলেন, “একজন বক্তা যখন জোর দিয়েছিলেন যে, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ব্রিটেনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ২০৬০ সালের মধ্যে বৃহত্তম হয়ে উঠবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যানার্জি তার বিরোধিতা করে বলেন, আমি এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করব।” মমতার বক্তব্যকে শুভেন্দু কেবলমাত্র বিশ্বাসঘাতকতা ও সমস্ত বাংলার এবং ভারতীয়দের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যানার্জি ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশের মাটিতে ভারতের সুনাম নষ্ট করেছেন। শুভেন্দু মমতার মন্তব্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করার ও ভবিষ্যতে তাঁকে সরকারি বিদেশ সফরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য বিদেশমন্ত্রকের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত (Suvendu Adhikari), মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিটেন সফর বিতর্কমুক্ত ছিল না। কেলগ কলেজেও বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-সম্পর্কিত হিংসা এবং আরজি করকাণ্ডে (S Jaishankar) তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্ল্যাকার্ড ধরেছিলেন (Subhendu Adhikari)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share