মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ভারত (Viksit Bharat) শুধুমাত্র পরিকাঠামো বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি ভারত গড়তে চাই যেখানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের ৫০% নারী জনগোষ্ঠী নীতি নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে এটি আমাদের সৌভাগ্য যে আজ আমরা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য একটি নতুন দিশা নির্ধারণ করতে পারি।”
বিরোধীদের তুলোধোনা
মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) নিয়ে বিরোধীদের তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ২০২৩-এই লোকসভায় (Lok Sabha Debate) মহিলাদের আসন সংরক্ষণ নিয়ে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার বিলের সংশোধনী নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদের কটাক্ষ করে মোদী বললেন, ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে।’ শুধু তাই নয়, এই বিলের বিরোধিতার ফলে তিনি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন বলেও বিরোধীদের খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লোকসভার বিশেষ অধিবেশন। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস করানোই মূল উদ্দেশ্য। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশের সময়েই বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পরে ওই আসনের ৩৩ শতাংশ থাকবে মহিলাদের জন্য।
লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের বোনেদের উপর আস্থা রাখুন। লোকসভায় তাঁদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।” তিনি স্বীকার করেন যে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে দেরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “২৫-৩০ বছর আগে এই প্রয়োজন অনুভূত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দেরি করেছি।” পাশাপাশি তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রকে “Mother of Democracy” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজনৈতিক মতভেদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনার সময় একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দল নীতিগতভাবে বিরোধিতা করেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যে দলগুলো নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করেননি।” তবে নির্দিষ্ট কোনও দলের নাম করেননি তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সকলের সাফল্যের ফল। এটা গোটা দেশের সাফল্য। এটা কোনও একটি দলের জয় নয়।” মহিলা সংরক্ষণ বিলে রাজনীতির রং লাগানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।
‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর
গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে নারীদের নেতৃত্ব বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকে লক্ষ লক্ষ নারী নেতৃত্বে উঠে এসেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।” সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন (১৬–১৮ এপ্রিল) ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ডাকা হয়েছে। নিজেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতা বলে পরিচয় দিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমি একজন ওবিসি। কিন্তু দেশের সবাইকে নিয়ে চলায় বিশ্বাসী।’ এই বিলের বিরোধিতা করায় বিরোধীদের ‘ক্ষতি’ হলেও তাঁর রাজনৈতিক সুবিধা হতে পারে বলে হাসি মুখে জানান মোদী। তাঁর কথায়, ‘আপনারা এই বিলের বিরোধিতা করলে আমার কিছুটা রাজনৈতিক লাভ হতে পারে। তবে, সবাই যদি একমত হন, গোটা দেশ লাভবান হবে।’

Leave a Reply