LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

ipg news indian households continue to pay among the lowest cooking gas prices in the world petroleum ministrys big announcement on ujjwala yojana

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভারতের সাধারণ মানুষ বিশ্বের উন্নত দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস (LPG) পাচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকা ভর্তুকি (LPG)

মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে রবিবার থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পরেও ভারতের সাধারণ মানুষকে সিলিন্ডার প্রতি বাজারের প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম টাকা দিতে হচ্ছে। দিল্লিতে বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র (PMUY) সুবিধাভোগীরা সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি (DBT) পাওয়ায় আদতে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন মাত্র ৬৪২ টাকায়। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কটের জেরে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের প্রকৃত সরবরাহ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অর্থাৎ সরকার সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকার বিপুল আর্থিক বোঝা নিজে বহন করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ভারতের চেয়ে অনেক বেশি।

  • ভারত: ৬৪২ টাকা (উজ্জ্বলা গ্রাহক), ৯৪২ টাকা (সাধারণ গ্রাহক)
  • পাকিস্তান: ১,০৪৬ টাকা
  • নেপাল: ১,২০৭ টাকা
  • বাংলাদেশ: ১,২২৫ টাকা
  • শ্রীলঙ্কা: ১,২৪১ টাকা
  • আমেরিকা (USA): ১,৭৫৫ টাকা
  • অস্ট্রেলিয়া: ১,৭৬৫ টাকা
  • কানাডা: ২,৪১১ টাকা

পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরামকো নির্ধারিত রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্য (Saudi CP) ছিল টন প্রতি ৫৪৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুন মাসে এই দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টন প্রতি ৭৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৫৪ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমেই দেশে আসে। এই সঙ্কটের মধ্যেও ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার নিজস্ব পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলির মাধ্যমে এই প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি করে চলেছে। তাই দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

সরকারি ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ

বর্তমানে দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,১১৩.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে সরাসরি দর পরিবর্তিত হলেও, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গত অর্থবর্ষের শেষে ঘরোয়া এলপিজিতে তেল সংস্থাগুলির মোট আন্ডার-রিকভারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দাম ও খুচরো দামের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৬০,০০০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি ১০.৫৮ কোটিরও বেশি উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহককে বছরে প্রথম ৪টি রিফিলের জন্য ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং রান্নার ক্ষেত্রে শক্তি-দক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share