মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) খ্রিস্টান চার্চ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ধর্মান্তকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশ কাচের তলায় এখন ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি তহবিল ভারতে এসেছে, যার একটি বড় অংশই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তকরণের (Church Network Conversion) কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সংস্থার কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইডি এই মামলার গভীরে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এগুলি হল-
বিপুল বিদেশি তহবিল (Chhattisgarh)
ছত্তিশগড় রাজ্যে (Chhattisgarh) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে এই খ্রিস্টান চার্চ (Church Network Conversion) কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে এসেছে। এফসিআরএ (FCRA) বা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে এই টাকা আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।
চার্চ নেটওয়ার্ক ও ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ মডেল
অভিযোগ, ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (Church Network Conversion) একটি বিশেষ ‘চার্চ প্লান্টিং’ (Chhattisgarh) মডেল অনুসরণ করে। অর্থাৎ, দ্রুত হারে ছোট ছোট চার্চ তৈরি করা এবং স্থানীয় লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা। এই মডেলকে তারা ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ বা সংখ্যাবৃদ্ধি বলে অভিহিত করে।
টার্গেট ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকা
বস্তার এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান জেলাগুলিতে এই সংস্থার সক্রিয়তা সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। দরিদ্র ও সরল আদিবাসীদের আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোনও উপায়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ
ইতিমধ্যেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার উৎস কী এবং তা কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, সেই যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
খ্রিস্টান মিশনারির এই তদন্ত (Church Network Conversion) শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এই তদন্তের ফলে ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণ চক্রের পর্দা ফাঁস হবে। উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের সংস্থাগুলির ওপর কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক বছর ধরেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

Leave a Reply