Jantar Mantar Protest: দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত হল তিনটি বিকল্প স্থান

jantar mantar no more protests there government designates 3 other site said delhi police

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভ কর্মসূচির জায়গা হিসেবে যন্তর-মন্তরকে (Jantar Mantar Protest) ডি-নোটিফাই করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লিতে এই এলাকায় আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য তিনটি জায়গাকে চিহ্নিত করল কেন্দ্র। দিল্লির যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি পৃথক এলাকায় বিক্ষোভের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দিনে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর, ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসাবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এ বার সেই নির্দেশিকায় বদল আনল অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ নির্দেশিকা

১১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত স্থানগুলি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরাড়ি গ্রাউন্ড। যন্তর মন্তর থেকে এই স্থানগুলির দূরত্ব যথাক্রমে প্রায় ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশে ২৮ এপ্রিল, ২০২২-এর পূর্ববর্তী নির্দেশ আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। ওই নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ ও জমায়েত পরিচালনার জন্য সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) পরে প্রকাশ করা হবে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘‘কমিটির সুপারিশ মোতাবেক যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদস্থল থাকছে না। প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ কর্মসূচি করার জন্য এ বার তিনটি স্থান নির্ধারিত হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ।’’ ওই তিনটি স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে হলে কী ভাবে অনুমতি নিতে হবে, বা কী কী করতে হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে নির্দেশিকা (এসওপি)।’’

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সরব সিজেপি

যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া নিয়ে কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং দিল্লি পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে এসে সিজেপি-র নেতারা বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। দলের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিলেন এবং পুলিশ সেই বার্তা গ্রহণও করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভের তারিখ জানানো হয়নি। অনুমতি না দেওয়ার কারণও তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভের তারিখ জানানোর জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে দল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছেন দাস। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের বাসের ভিতরে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাসের কথায়, “ভারত সরকার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালাচ্ছে।” তবে দল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

কেন যন্তর মন্তর-এ সভা নয়

অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে INDIA জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রস্তাবিত মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। যদিও দিল্লি পুলিশের নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল করার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিজেপি-র দাবির বা ইন্ডি জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের সরাসরি যোগসূত্র নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে রাজধানীতে একের পর এক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার আবহে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তর বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি

যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, দিল্লি হাই কোর্টে হওয়ার কথা। আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধ করা হলেও বিকল্প কোনও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। এ ছাড়াও, ১০ ও ১১ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সংক্রান্ত পৃথক একটি মামলাও মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে আদালত জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন এবং শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share