SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

Sir detected wb errors says election commission

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন কলিযুগের ধৃতরাষ্ট্র! ব্যক্তি একজনই। অথচ তাঁর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা শত শত। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই আজবকাণ্ড ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR) ছাঁকনিতে। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে গত কয়েকটি নির্বাচনে এমন একাধিক উদাহরণ সামনে এসেছে, যেখানে শত শত ভোটারের নথিতে একজন ব্যক্তিকেই তাঁদের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (Election Commission)। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায়, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ২৮৩ (আসানসোল জেলার বারাবনি), এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ (SIR)

এই ধরনের ভুল তথ্যকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও জয়মাল্য বাগচির  বেঞ্চের সামনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই তথ্য তুলে ধরেন আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি বলেন, “এই ধরনের ভোটারদের যে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হল নথি সংশোধন করা। সঠিকভাবে পিতা-মাতার নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রাসঙ্গিক নথি পেশ করার দায় সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই।”

নির্বাচন কমিশনের হলফনামা

নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ১৬৯ (হাওড়া জেলার বালি)-তেও এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, সাতজন ব্যক্তিকে ১০০ জনের বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে, ১০ জনকে ৫০ জন বা তার বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে, আরও ১০ জনকে ৪০ জন বা তার বেশি ভোটারের পিতা হিসেবে, ১৪ জনকে ৩০ জন বা তার বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৫০ জনকে ২০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৮,৬৮২ জনকে ১০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ২,০৬,০৫৬ জনকে ছ’জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে এবং ৪,৫৯,০৫৪ জনকে পাঁচ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (SIR)।

ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা ৪.৪। দ্বিবেদী বলেন, “এর অর্থ, গড়ে প্রতিটি পরিবারে ২–৩ জন সন্তান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন অভিভাবকের সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি ভোটার যুক্ত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া জরুরি।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “যেসব ক্ষেত্রে ছ’জন বা তার বেশি ভোটার নিজেদের একজন ব্যক্তিকেই অভিভাবক হিসেবে যুক্ত করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে ওই সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে বাড়তি যাচাই প্রয়োজন। এই কারণে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা নোটিশ জারি করছেন, যাতে যাচাই করা যায় এই মিল সঠিকভাবে হয়েছে কি না এবং কোনও প্রতারণামূলক ম্যাপিং হয়েছে কি না, যা বাদ দেওয়া যায়।”

‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগে আরও চারটি কারণে ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেগুলি হল, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে না মেলা, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী ভোটারের (Election Commission) বয়স ও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকা অনুযায়ী গণনা করা অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া, ভোটারের বয়স ও অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি হওয়া, ভোটারের বয়স ও দাদু-ঠাকুমার বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম হওয়া (SIR)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share