মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূচনা হল। আজ থেকে সমস্ত সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরুর পূর্বে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু সরকারি সাধারণ স্কুলেই নয়, মিশনারি স্কুল এবং মাদ্রসাগুলিতেও (Missionary School and Madrasa) একই ভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকার মূল বিষয়সমূহ (Vande Mataram)
শিক্ষাদফরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গান গাওয়ার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- দৈনিক প্রার্থনা সভা: প্রতিদিন বিদ্যালয় শুরুর নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনাসভায় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থী—উভয়কেই উপস্থিত থাকতে হবে।
- সম্মিলিত কণ্ঠ: প্রার্থনার অঙ্গ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরিবেশন করতে হবে।
- শৃঙ্খলা রক্ষা: এই প্রক্রিয়া চলাকালীন বিদ্যালয়ের (Missionary School and Madrasa) সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদলের মতে, শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
শিক্ষা দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পুঁথিগত জ্ঞান অর্জন নয়, বরং চরিত্র গঠন (Vande Mataram)। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সংহতির চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’’ আজ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যালয়গুলিতে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে। বহু স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের উদ্দীপনার সঙ্গে এই নতুন নিয়মে শামিল হতে দেখা গিয়েছে।
শিলিগুড়িতে বহু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তোড়জোড়
শিলিগুড়িতে বহু ইংরেজি মাধ্যম ও মিশনারি স্কুল (Missionary School and Madrasa) রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গানের শিক্ষকরা প্রতিদিন নিয়ম করে বন্দেমাতরম গানের রিহার্সাল করছেন ইতিমধ্যে। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমরা নিজের স্কুলে আগে থেকেই প্রথম দুটো স্তবক (Vande Mataram) গাইতাম। এবার বাকি দুটো স্তবক ছাত্রছাত্রীদের শেখাচ্ছি। উত্তরবঙ্গে আমাদের উত্তরবঙ্গ সহোদয় স্কুল কমপ্লেক্সের অধীনে ৮০টি সিবিএসই স্কুল আছে। তাদেরকেও দ্রুত বন্দেমাতরম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে মিশনারি স্কুলগুলি আমাদের সংগঠনের আওতার বাইরে। তবে আশা করছি ওরাও দ্রুত গাইবে।” রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই দ্রুত বন্দে মাতরম নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে সরকারি স্কুল, মিশনারি স্কুল এবং মাদ্রাসাগুলি।

Leave a Reply