মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Elections 2026) ভোটারদের সুবিধার্থে ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সু-শৃঙ্খল করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বুথে ঢোকার আগে থেকে ভোট দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় কী কী বদল আসছে, তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের মধ্যে কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে না। ফলে কথা-কাটাকাটি বা উত্তেজনা ছড়ানো সহজ হবে না। শুধু তাই নয় কমিশন জানিয়েছে, এবার রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকরা ঘরে বসেই ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে যাঁদের বয়স ৮৫-এর উপরে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষমরাও বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
ভোট-কেন্দ্রের বাইরে পোস্টারে নির্দেশিকা
বিধানসভা নির্বাচনে প্রতি বুথের বাইরেই চার ধরনের পোস্টার টাঙিয়ে দেবে কমিশন। ওই পোস্টারগুলিতে প্রার্থীদের নাম, বুথ সংক্রান্ত তথ্য, ভোট দেওয়ার নিয়ম এবং কোন কাজ করা যাবে না, এসব স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে। ভোটার কার্ড ছাড়াও কোন কোন নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে, সেটাও সেখানে উল্লেখ থাকবে। ভোটারদের বোঝার সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় চিহ্নিত করা থাকবে। এগুলি এমন জায়গায় থাকবে, যাতে ভোটারেরা সহজে দেখতে পান।
ভোটার সহায়তা কেন্দ্র
বুথের কাছে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্রও। সেখানে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) থাকতে বলা হয়েছে। তাঁরা ভোটারদের সঠিক বুথ বা কক্ষ খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন এবং ক্রম নম্বর অনুযায়ী নির্দেশনা দেবেন।
১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নিয়ম। কমিশন (Election Commission) স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ভোট দিতে যাওয়ার আগে মোবাইল সুইচ অফ বা সাইলেন্ট করে নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখতে হবে। ভোট দেওয়া হয়ে গেলে পরে তা সংগ্রহ করা যাবে। এই নিয়ম কঠোর ভাবে মানতে বলেছে কমিশন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে।
ন্যূনতম পরিষেবায় জোর কমিশনের
রবিবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাধিক নিয়মকানুনের কথা জানিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোট হচ্ছে। বলা হয়েছে, এই চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৭টি বুথে ভোটারদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) সেই নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এই ন্যূনতম পরিষেবার মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, শৌচাগার এবং তাতে পর্যাপ্ত জল, ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলোর মতো কয়েকটি বন্দোবস্ত। সব বুথ একতলায় করা হচ্ছে। এই নিয়মের ফলে বয়স্করা সুবিধা পাবেন। ভোট দিতে দাঁড়ানোর জন্য ছায়ার আশ্রয়, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য উপযুক্ত র্যাম্প, বিচ্ছিন্ন ভোটকক্ষ এবং উপযুক্ত চিহ্নিতকরণ নিশ্চিত করতে বলেছে কমিশন।
ঘরে বসেই ভোট
কমিশনের তরফে জানান হয়েছে, কেউ ঘরে বসে ভোট দিতে চাইলে সবার প্রথমে বিএলও-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ভোটার বা পরিবারের কাউকেই যোগাযোগ করতে হবে। এরপর ১২ডি ফর্ম ফিলআপ করে আবেদন করে ফেলতে হবে। তাহলেই ভোটারের তরফের কাজ শেষ। এরপর বিএলও সেই ফর্ম গিয়ে জমা দেবেন নির্দিষ্ট জায়গায়। তারপর রিটার্নিং অফিসার কবে ভোটগ্রহণ করা হবে, সেটা ঠিক করবেন। সেই মতো প্রার্থীদের জানান হবে দিন। এমনকী ভোটারদেরও বলে দেওয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি গিয়ে নেওয়া হবে ভোট। এই হল পুরো প্রক্রিয়া। তবে শুধু বাড়ি বসেই ভোট দেওয়ার সুবিধাই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে কমিশন। এক্ষেত্রে যাঁরা ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেই সব সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি পোস্টল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া দমকল, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ট্র্যাফিক, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সাংবাদিক সহ আরও কিছু মানুষকে পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দফতরের জন্য মনোনিত নোডাল অফিসারের কাছে করতে হবে আবেদন। তাহলেই ভোট দেওয়া যাবে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ
বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেই একথা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলার একটি বুথেও নজরদারিতে হালকা মনোভাব দেখাচ্ছে না কমিশন। রাজ্যজুড়ে ৮০ হাজার ৭১৯ বুথের ভিতর ও বাইরে মিলে ২ লাখ সিসিটিভি, ওয়েবক্যাম থাকবে। থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই লাখের মতো জওয়ান। সিসিটিভি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে এবার ভোট হবে বাংলায়। বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলায় বুথ দখল, ছাপ্পার অভিযোগ ওঠে। শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। এবারও বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একাধিক দাবি জানাতে থাকে বিরোধীরা। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে বাংলা সফরে এসেছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেখানেও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায় রাজনৈতিক দলগুলি। তাই বাংলায় নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছে কমিশন।

Leave a Reply