PM Modi: “গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাননি কোনও সিআরপিএফ জওয়ান”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

first-diwali-in-naxal-free-bastar-pm-modi-celebrates-with-jawans

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নকশালবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দাবি, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারাননি। রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তারে দীপাবলি উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালের পর থেকে মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে দেশের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ওই বছর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা আরও (Naxal Free Bastar) শক্তিশালী হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

মোদি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দৃঢ় সংকল্প এবং সুপরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে দেশের শত্রুদের মোকাবিলা করে পরাস্ত করতে হবে। একসময় এই কাজ করার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। ২০১৪ সালে সেই সদিচ্ছা আরও শক্তিশালী হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দেশের সেবা করার সুযোগ মানুষ তাঁকে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখেছি, নকশালদের তুলনায় আমাদের বেশি সংখ্যক জওয়ান প্রাণ হারাচ্ছেন। কিন্তু ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারাননি।”

প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের কৃতিত্ব সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পকে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নকশাল সমস্যা মোকাবিলায় পূর্ববর্তী সরকারগুলির ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। মোদির দাবি, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশি সংখ্যক সদস্য নিহত হতেন।

নকশাল-সমস্যাকে উপেক্ষা করা হয়েছিল!

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সময়ের সরকারগুলি নকশালবাদকে এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি বলে মনে করেছিল, যার কোনও সমাধান নেই। ফলে সমস্যাটিকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই মোটেই সহজ ছিল না। নকশালরা একদিকে যেমন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদেরও নিশানা করেছে। পাশাপাশি, নকশাল প্রভাবিত এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, নকশালরা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল। এক বছরে দেশে প্রায় ২,০০০টি নকশাল হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানান তিনি।

২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের হিংসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী দান্তেওয়াড়ায় নকশালদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করেন। ওই বছরই একই জেলায় অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মোদি বলেন, “এই মাটি আমাদের বীর জওয়ানদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল। অথচ প্রাসাদে বসবাসকারী প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে প্রতিবাদের একটি আওয়াজও শোনা যায়নি। তাঁদের চোখে এক ফোঁটা জলও দেখা যায়নি।”

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কয়েক দশক ধরে এই ধরনের হামলা চলেছে। শুধু ছত্তিশগড়েই ওই সময়ে এক হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে তিনি ফের দাবি করেন, সেই সময়ে নকশালদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল বেশি। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারগুলি বিদ্রোহের মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ (PM Modi) হয়েছিল।মোদি বলেন, “শত্রুর মুখোমুখি হয়েও কোনও দেশ এমন মনোভাব নিয়ে চলতে পারে না যে, যা চলছে তা চলতেই থাকবে।”

নকশালমুক্ত ভারত

এর আগে ২০২৬ সালের দীপাবলিকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েক দশকের নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ভারত। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রথম এমন দীপাবলি, যখন দেশ কয়েক দশকের নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে। এই প্রথম দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত।” তাঁর কথায়, নকশাল আতঙ্কের ভয় ছাড়াই এখন কোটি কোটি ভারতীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারবেন। এই সাফল্যের পিছনে নিরাপত্তা বাহিনীর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বস্তারে এসেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি তাঁদের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে (Naxal Free Bastar)। দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর ভূমিকার তুলনা করে মোদি বলেন, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় উভয়ের অবদানই সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁদের কাজের জন্য কোটি কোটি ভারতীয় গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share