মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের (Assembly Election 2026) নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙল বাংলা। একই সঙ্গে নির্বাচন হল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। অভিযোগ জমা পড়ল আগের তুলনায় অনেক কম। বঙ্গে এই নির্বাচনকে নতুন মাইলফলক অ্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলায় এসে তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরের মধ্যে এটাই সম্ভবত সবথেকে কম হিংসার নির্বাচন।”
কেন রেকর্ড সংখ্যক ভোট
প্রথম দফার নির্বাচনে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মনোজ বলেন, “এসআইআর-র ফলে মৃত ভোটার ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নেই। এর ফলে ভোটের হার শতাংশ তো বাড়বেই। দেশব্যাপীই এই ছবি দেখা যাচ্ছে। অসম-সহ যে সব রাজ্যে সম্প্রতি ভোট হয়েছে, সেখানে ভোটদানের হার বেড়েছে। আর বাংলায় তো ভোটদানের হার সবসময়ই বেশি থাকে। এবারও বেশি থাকবে।” ২০১১ সালের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬ সালের প্রথম দফায় ভোটের হার। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮২.৬৬ শতাংশ। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮১.৫৬ শতাংশ। এবার প্রথম দফাতে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায়ও ভোটের হার বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ তথা দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে কলকাতায়। এখানে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকে। এদিন সিইও-র কাছে জানতে চাওয়া হয়, কলকাতায় কি এবার ভোটদানের হার বেশি থাকবে? তার উত্তরে সিইও বলেন, “আমরা সবাইকে ভোটদানের আবেদন করতে পারি। কলকাতাবাসীও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।”
এক কথায় সফল নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের স্পেশ্যাল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, দিনভর বড় কোনও অশান্তির খবর নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা অতীতের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুথে বুথে টহল দিচ্ছে সিআরপিএফ। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমিশনের কন্ট্রোল সেন্টার প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠে রয়েছেন ২০০ জন মাইক্রো-অবজারভার। ইভিএম সংক্রান্ত সমস্যা বা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই প্রিসাইডিং অফিসারদের সক্রিয় করা হচ্ছে। এবার বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট কিংবা রক্তপাতের মতো ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে। ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং কমিশনের কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফল ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এক কথায় বলতে গেলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের দিন ১০০ তে ১০০ না হলেও ৯৫ শতাংশ সফল নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply