Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

Bengal Elections 2026 PM Modi Election Rally Mathurapur

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোড়া জনসভা। প্রথম জনসভা হয় কৃষ্ণনগরে। সেই সভা সেরে তিনি পৌঁছে যান মথুরাপুরে। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের জেতান।’’

‘‘বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’

এদিন বক্তব্যের শুরুতে মথুরাপুরের জনসভায় জমায়েত দেখে মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এখানে এসেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করে দিয়েছেন। সকাল ৯টা-১০টা থেকে মানুষ চলে এসেছেন। অনেকে রোদে দাঁড়িয়ে আছেন। এত উৎসাহ! চারদিক থেকে একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, গ্রাম থেকে, শহর থেকে, গলি থেকে— পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে। যাঁরা প্রথম ভোটার, তাঁদের বলব, ভরসার পক্ষে ভোট দিন। ভয় দূর করুন। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, যে হারে ভোট পড়ছে, তাতে ভয় হারছে, ভরসা জিতছে।’’

‘‘তৃণমূলের মহিলা-বিরোধী রূপ প্রকাশ্যে’’

মোদি বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে লোকসভায় যা হয়েছে, তাতে তৃণমূল-সহ সমস্ত দলের মহিলাবিরোধী রূপ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মহিলারাই এর জবাব দেবেন। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব সংসদে নিয়ে এসেছিল। তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। বাংলা তো মা দুর্গার পুজো করে। তৃণমূল এখানেই মহিলাদের সম্মানকে নষ্ট করেছে, আপনাদের একটি ভোটই তার হিসাব করতে পারে। অন্যায় সহ্য করবেন না। অনেক হয়েছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘এখানে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সব কাজে টাকা দিতে হয়। চাকরি কে পাবে, সেটাও ঘুষ খেয়ে ওরা ঠিক করে। যদি কাউকে জমি কিনতে হয়, তাতে মস্তান দাদাকে টাকা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে এসেছে। কাটমানির খেলা আর চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’’

বাম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ

মোদি বলেন, ‘‘বাংলা ৩৪ বছর ধরে বামেদের কুশাসন সহ্য করেছে। তার পর তৃণমূলকে তিন-তিন বার, ১৫ বছর ধরে সুযোগ দিয়েছেন এখানকার মানুষ। কেন্দ্রে বিজেপির ১১ বছরের শাসন রয়েছে, বাংলায় তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন। আমরা সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, পিএম আবাস দিয়েছে। ১২ কোটির বেশি শৌচালয় বানিয়ে দিয়েছি। ৫৫ কোটির বেশি মানুষের ব্যাঙ্কে জনধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছি, তিন কোটি মহিলাকে লাখপতি দিদি বানিয়েছি। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে বার করে এনেছি। তালিকা দিতে দিতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে। কিন্তু তৃণমূল এত বছরে কী দিয়েছে এই রাজ্যকে? শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হয়নি। প্রতি জেলায় মেগা ফুডপার্ক তৈরির ঘোষণা হয়েছিল। সেটাও এখনও হয়নি। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মথুরাপুরের লোকজন।’’

গঙ্গাসাগর-মথুরাপুর মেলা প্রসঙ্গ…

মোদি বলেন, ‘‘সারা দেশ থেকে গঙ্গাসাগরে মানুষ আসেন। কিন্তু এখানে এখনও একটা পাকা সেতু নেই। প্রতি বছর ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার পর সব হাওয়া। ফেরির উপর মানুষকে নির্ভর করতে হয়। বান আসে, মানুষের ঘর ভেসে যায়। ফসল নষ্ট নয়। কিন্তু এই সরকারে তাতে কিছু যায় আসে না। নিজেরা কোনও কাজ করে না। কেন্দ্রকেও বাধা দেয়।’’
মোদি বলেন, ‘‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’’

অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি

মোদী বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীরাও এখানে সমস্যায়। চারদিকে লুট চলছে। তৃণমূল সরকার তাতে মদত দিচ্ছে। এখানকার শিশুদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারই কেন্দ্রে প্রথম মৎস্যপালনের আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। সমুদ্রে যান যে মৎস্যজীবীরা, তাঁদের সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে আমাদের সরকার। তাঁদের আয় বাড়বে। তৃণমূল এখানকার সমুদ্রকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে।’’ মোদী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। কাদের মদতে তারা ঢুকছে? তৃণমূলের মদতে। ওরা চায়, অনুপ্রবেশ বন্ধ না-করতে। যখনই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলি, তখনই ওরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করব এখানে ক্ষমতায় এলে।’’

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share