Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

diabetes-blood-pressure-copd-chronic-disease-awareness

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

ক্রনিক ডিজিজ কী?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

সিওপিডি

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

পেটের সমস্যা

এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

অস্টিওপোরোসিস

ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

 

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share