PM Modi: “বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তোমাদেরই’’, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা মোদির

pm-modi-gen-z-chennai-world-needs-your-solutions

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের প্রতি ফের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের যেসব সমাধান অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, সেগুলি খুঁজে বের করার ক্ষমতা রয়েছে নবীন প্রজন্মের (Gen Z) হাতেই। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার এবং বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, নির্ভয়ে নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে, প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

চেন্নাইয়ের নন্দনবক্কমে চেন্নাই বাণিজ্য কেন্দ্রে জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য যে নতুন ভাবনা ও সমাধানের প্রয়োজন, তা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎকেই রূপ দেবে না, গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”

তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা (PM Modi)

তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ গোটা বিশ্ব বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজছে। সেই সমাধান দেওয়ার সম্ভাবনা তোমাদের রয়েছে। আমি চাই, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর পরিসরে দেখুক। কারণ, এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ।” নিজেকে কাশীর প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহান তামিল কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর কথাও স্মরণ করেন। নির্ভীকভাবে জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা জোগানো এই কবির ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছে আমার আবেদন, নিজেদের নির্ভীক হওয়ার সুযোগ দাও। নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ কর। বড় স্বপ্ন দেখ, অন্যভাবে চিন্তা কর এবং নির্ভয়ে এগিয়ে চলো।” তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আশাবাদী বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ। আমরা একসঙ্গে এই কাজ করে দেখাব।”

তরুণদের ক্ষোভের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন একটা সময়ে এল, যখন দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে নেমেছে পড়ুয়া ও তরুণদের একাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রতিবাদ ক্রমশ জোরালো হয়েছে।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে পুলিশ আটক করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে। মুম্বই থেকে তাঁদের বিমান দিল্লিতে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই আটক করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন ও পরিষেবা, পাশাপাশি থামিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় ট্রেন চলাচলও (PM Modi)।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নিতান্ত প্রয়োজন না হলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার প্রয়োগ প্রত্যাহারের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে বলা হয়।

তরুণদের অসন্তোষ কি বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির?

এর আগে চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে। বেকারত্ব, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া নিয়ে তরুণদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

তৃতীয় দফার (Gen Z) শাসনকালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা শাসকদলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী শক্তি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষমতার উপর প্রধানমন্ত্রীর এই জোর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (PM Modi)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share