PM Modi at Ganga: ‘বাংলার আত্মা দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা’, ভোরে নৌকাবিহারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিলেন উন্নত বাংলা গড়ার শপথ

pm modi at ganga takes boat ride near kolkata and howrah amid assembly election 2026 in west bengal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা (PM Modi at Ganga)। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। শুক্রবার সকালে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারের পর এমনই অনুভব ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন গঙ্গায় নৌকাবিহারের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নৌকায় বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পিছনে দেখা যাচ্ছে হাওড়া এবং বিদ্যাসাগর সেতু। এ-ও দেখা যাচ্ছে যে, চোখে রোদচশমা পরে ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলছেন প্রধানমন্ত্রী। নৌকাবিহারের একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেন মোদি।

মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম

দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রচারে বৃহস্পতিবার বঙ্গে আগমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। শুক্রবারও দু’টি কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তার আগে এ দিন সকালেই চমক মিলল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সকাল বেলা গঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গোয়ালিয়র ঘাটে যান তিনি। সেখান থেকে একটি নৌকায় গঙ্গার বুকে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন তিনি । হাতে থাকা ক্যামেরায় নিজের জন্য ফ্রেমবন্দিও করেন কলকাতা ও হাওড়ার স্কাইলাইন। এর পরে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সকালের গঙ্গায় ঘোরার বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে বাংলার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পোস্টে তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালির কাছে গঙ্গার মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরেন। লেখেন, “প্রতিটি বাঙালির কাছে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এটা বলাই যায় যে, গঙ্গা বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।” সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে মোদি এ-ও লিখেছেন যে, “আজ সকালে কলকাতায় আমি হুগলি নদীর বুকে কিছু ক্ষণ সময় কাটালাম। মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর একটা সুযোগও পেলাম। পবিত্র গঙ্গা জল সমগ্র সভ্যতার চিরন্তন চেতনা বহন করে চলেছে।”

বাঙালির উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi at Ganga) গঙ্গা ও বাংলার উন্নয়নের শপথের কথাও লিখেছেন। তাঁর কথায়, ‘হুগলির তীরে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং মহান বাঙালি সমাজের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার আমাদের অঙ্গীকার আবারও নিচ্ছি।’ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে নদীর দু’ধারে ভিড় জমে যায়। গোয়ালিয়র ঘাটে আসা প্রাতর্ভ্রমনকারী ও নৌকাচালকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল পোস্টে সে কথা জানিয়ে নৌকাচালকদের প্রশংসাও করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার হাওড়া থেকে ফেরার পথেই ব্রিজ ধরে গঙ্গা পার হওয়ার সময়েই সেই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মনভরানো দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন তিনি।

বেলুড় মঠে স্বামীজির ধ্যানকক্ষে প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসে মথুরাপুর এবং কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর রোড শো করেন হাওড়ায়। প্রধানমন্ত্রী রাত্রিবাস করেন রাজভবন (অধুনা লোকভবন)-এ। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সভা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী সভা থেকে কিছু ক্ষণ বিরতি নিয়ে বেলুড় মঠে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মহারাজদের প্রণাম সেরে স্বামী বিবেকানন্দের ধ্যানস্থানের সামনে কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটান। পরে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যে স্থানে স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) ধ্যান করতেন, আজ সেখানে যেতে হতে পেরে আমি অভিভূত। নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দ।”

রাজনীতি নয়, আত্মার যোগ! বেলুড় মঠে একাকী মোদি

শৈশব থেকেই রামকৃষ্ণ মঠ তথা সঙ্ঘের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন মোদি। সন্ন্যাস নেওয়ার বাসনায় একাধিক বার মঠের একাধিক শাখায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীদের পরামর্শেই সন্ন্যাস না-নিয়ে সামাজিক কাজে মন দেন। আরএসএস হয়ে বিজেপিতে যান। গুজরাটে ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু সে দীর্ঘ যাত্রাপথেও রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখেন। ফলে মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার শপথ নেওয়ার আগে বেলুড় মঠ থেকে প্রসাদী ফুল গিয়েছিল মোদির কাছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে এর আগেও একাধিকবার বেলুড় মঠে গিয়েছেন মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঠে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। ঘুরে দেখেন মঠের নানা অংশ। গঙ্গার ধারের বারান্দাতেও কিছুটা সময় কাটান। তবে এই মঠ সফরকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির স্পর্শ থেকে দূরে রাখার বিষয়েও মোদি যত্নশীল ছিলেন। নিজের দলের কাউকে তিনি সঙ্গে নেননি। একাই গিয়েছিলেন বেলুড় মঠে।

শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে

ঝালমুড়ি পর্বের পরে শুক্রের সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদির গঙ্গা বিহারে জোর শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে। গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়ে বাংলার উন্নয়নের অঙ্গীকারের বার্তা রাজ্যের শাসকদলকে চিন্তায় ফেলেছে। আগেই রাজ্যের ভোট-পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে পরিবর্তনের ঝড় বইছে। প্রথম দফার ভোটে মহিলা ও যুব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকেই তিনি সেই পরিবর্তনের বড় দৃষ্টান্ত বলে তুলে ধরেন। মোদির কথায়, “আজ পশ্চিমবঙ্গের রেকর্ড ভোটিংই বলে দিচ্ছে, ভয় হারছে, ভরসা জিতছে। ১০ দিন পরে যখন গণনা হবে, নিশ্চিত ভাবে সবদিকে পদ্মফুল ফুটবে।” তিনি নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এখনই সময় পশ্চিমবঙ্গের নির্মম সরকারকে উপড়ে ফেলার। তাঁর দাবি, রাজ্যের মা-বোনেদের উপস্থিতিই তৃণমূলের ঘুম কাড়ছে। মহিলা নিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আর জি কর হাসপাতাল ও সন্দেশখালির ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল গুন্ডাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মহিলা বিরোধী চেহারা সামনে এসে গিয়েছে। মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিল সংসদে পেশ করেছিল, কিন্তু তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহিলাদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের কোনও চিন্তা নেই। ১৫ বছর ধরে মানুষ অত্যাচার সহ্য করেছে, এখন বদল চাই।”

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share