Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

shamik bhattacharya strict to no violence goes to nabanna what he said about bjp in bengal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না, হুঁশিয়ারি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya)। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার জন্য বুধবার বিকেলে নবান্নে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে ঢোকার আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলে যান, ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনাও করবেন তিনি।

কেন নবান্নে গেলেন শমীক

বুধবার বিকেল ৩টে নাগাদ শমীক নবান্নে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। উদ্দেশ্য, ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করা। আগামী শুক্রবার, ৮ মে সন্ধেয় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ৯ মে শনিবার পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হবে রাজকীয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করতেই এদিন বিকেলে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

শপথগ্রহণে থাকবেন মোদি-শাহ

বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ভাবে নাম বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। এগারো সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘পাল্টানো দরকার’ ক্যাম্পেনে বিজেপি কোনও একজনকে মুখ করেনি। তৃণমূলকেও এ ব্যাপারে কোনও ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দেয়নি। দল লড়েছিল সমষ্টিগত লড়াই দিয়ে।

ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কঠোর

নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক আবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’’

দলে তৃণমূলীকরণ নয়

শমীকের দাবি, রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। আর যাঁরা ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বিদায় জানানো হবে। বস্তুত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এবং পর দলবদলের রাজনীতি সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর দল পাল্টানোর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। শমীক জানাচ্ছেন, তাঁর দলে ওই দৃশ্য দেখা যাবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে… প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’’

রক্ত ঝড়ছে বিজেপি কর্মীদের

শমীকের এ-ও দাবি, রাজ্যে প্রথম বার বিজেপি ক্ষমতা দখল করার পরেও রক্ত ঝরেছে তাঁদেরই। ইতিমধ্যে বিজেপির দু’জন কর্মী মারা গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ নির্বাচনের ফল যদি উল্টো হত, এখনই বিজেপির ২০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। ১০০০ মহিলা গণধর্ষিতা হতেন। কিন্তু আমরা কোনও অবস্থায় হিংসা চাই না। আমি আগেও রাজ্যের ডিজি, কলকাতার সিপি-কে বলেছি, লাঠিচার্জ করতে।’’বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। তার পরেও বিজেপির যদি কোনও নেতা উস্কানিতে প্ররোচনা দেন, হিংসায় প্রশ্রয় দেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’

নবান্ন না মহাকরণ!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল (West Bengal Election Result 2026) ঘটে গেলেও প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে জল্পনা চলছেই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে আবার গঙ্গার এপারে মহাকরণে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ নবান্ন (Nabanna) থেকে নয়, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ (Writers’ Building) থেকেই সরকার চলবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সরে যাওয়ার পর থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল, তা আজও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্ন না কি মহাকরণ – কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে প্রথম বৈঠক!

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুধবার জানিয়েছেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের স্থান এখনও স্থির হয়নি। মহাকরণের মেইন ব্লকসহ একাধিক ব্লকের সংস্কারের কাজ এখনও বাকি। এই অবস্থায় বৈঠক কোথায় হতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। বিকল্প হিসেবে নবান্ন বা বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের নাম উঠে আসছে। তবে সূত্রে খবর, বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব বিধানসভার সচিবের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়তো বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত হতে পারে।

 

 

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share