মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (Election Commission India) নির্বিঘ্ন ও ভীতিমুক্ত করতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৩৬ ঘণ্টায় এখনও পর্যন্ত ১৫৪৩ জন চিহ্নিত দুষ্কৃতীকে আটক করেছে পুলিশ (Bengal Assembly Election 2026)।
ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য (Election Commission India)
নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) সূত্রে খবর, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। রবিবার সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে ১৫৪৩ জন দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছে। এই বিপুল ধরপাকড়ের মধ্যে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ৪৭৯ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন নাড়ুগোপাল ভকত নামে পূর্ব বর্ধমান জেলার এক তৃণমূল কাউন্সিলরও। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মূলত সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচনী হিংসায় (Bengal Assembly Election 2026) জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অথবা যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোটে উত্তপ্ত জগদ্দল
রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জগদ্দল। গোলমালের সূত্রপাত হয় আটচলা বাগানে। তৃণমূলের আক্রমণের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
চিহ্নিতকরণ ও অভিযান
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) নির্দেশে জেলাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে গত কয়েক দিনে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) কার্যকর করা হয়েছে। জেলা ভিত্তিক গ্রেফতারের সংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, পূর্ব বর্ধমানে ৪৭৯ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, উত্তর কলকাতায় ১০৯ জন, হুগলিতে ৪৯ জন, নদিয়া জেলায় ৩২ জন এবং হাওড়ায় ৩২ জন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি
ভিন রাজ্য বা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে যাতে কোনো দুষ্কৃতী রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য নাকা চেকিং এবং সীমানা সিল করার কাজও জোরদার করা হয়েছে। দুষ্কৃতী দমনের পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ক্ষেত্রেও জেলা পুলিশকে বিশেষ সক্রিয় হতে দেখা গেছে।
শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি
প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ ভোটদান (Bengal Assembly Election 2026) নিশ্চিত করতে আমরা শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছি। কোনও ধরণের প্ররোচনা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”
প্রথম দফার ভোটের আগে পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড় জনমনে সুরক্ষার বার্তা দিলেও, রাজনৈতিক মহলে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক উৎসবকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২৯ এপ্রিল কতটা শান্তিপূর্ণ ভোট হয় তাই এখন দেখার।

Leave a Reply