PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

Bengal Elections 2026 PM Modi Election Rally

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। ব্যারাকপুরের ভাটপাড়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’’ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’

অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ…

বাংলার এই ভোটকে পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে। আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’

বাংলায় পূর্বোদয় হচ্ছেই…

বাংলায় পূর্বোদয় যে হচ্ছেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’

তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই…

মোদি জানান, বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। তাই কোনও তৃণমূল নেতা রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে। তৃণমূলের এক জন নেতাও রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট দিতে পারে না, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া উচিত? কিছু করেন, বরবাদীর জন্য সুযোগ দেবেন?’’ বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।’’

তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক

ব্যারাকপুরে কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা এদিন সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পরিবর্তন কেন জরুরি, তা ব্যারাকপুরের থেকে বেশি কেউ জানে না। যে ব্যারাকপুরে আগে বাইরে থেকে লোক আসতেন, কাজের জন্য, আজ সেখান থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছেন। এখানে কারখানার শব্দ আসত এক সময়, আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অকল্যান্ড পাটকলে কী হল, সবাই দেখেছেন। আজ ব্যারাকপুরের দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট, কাপড়কল বন্ধ হয়েছে একটার পর একটা। ব্যারাকপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে গত কয়েক মাসে এক ডজন পাটকল বন্ধ হয়েছে।’’ এক সময় শিল্পের জন্য পরিচিত ব্যারাকপুর এখন গুলি-বোমার জন্য কুখ্যাত। সেই কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক দেন মোদি। বলেন, ‘‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে।’’

মোদির গ্যারান্টি…

ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী করবে, তার একটা আভাস দিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এখানে রোজগার নেই। তাই যুবসমাজ বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। বৃদ্ধেরা একা হয়ে গিয়েছেন। বৃদ্ধাবাসের সংখ্যা বাড়ছে। বিজেপি সরকার এসে বাংলার যুবকদের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নিয়োগ সময়ে হবে। নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। সরকারি কর্মীদের তৃণমূলের ভয় থেকে মুক্ত করা হবে। মোদির গ্যারান্টি শুনে নিন, সপ্তম কমিশনের লাভ পাবেন সরকারি কর্মীরা। এখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিস্তার হবে। আর্ট, গেমিং ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ করা হবে যুবসমাজের জন্য। বাংলার স্কুলে যাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে। গ্রামে ১২৫ দিনের আয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। জিরামজি আইন কার্যকর করা হবে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, মৎস্য যোজনা কার্যকর করা হবে, যাতে কারিগর, শিল্পীরা, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি হবে।’’ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে জোর সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদির গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন। কলকাতায় মেট্রোর যাতে দ্রুত বিস্তার হয়, তাই বিজেপি-কে ভোট দিন। বৈদ্যুতিন বাসের নতুন নেটওয়ার্ক হবে।

মহিলাদের বিশেষ প্রতিশ্রুতি…

মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রত্যেকটা হিসেব নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন। যে বোনদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাঁরা ন্যায় পাবেন। হিসাব নেব। সব ফাইল খুলব। মহিলাদের রোজগার, চিকিৎসা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। বাংলায় বিজেপি সরকার গর্ভবতীদের ২১ হাজার টাকা দেবে। মেয়ে হলে সুকন্যা সমৃদ্ধির সুবিধা দেবে। কলেজে ভর্তি হলে টাকা পাবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাকা ঘর পাবেন। তৃণমূল আপনাদের অধিকারের চাল লুটে নেয়। বিজেপি বন্ধ করবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসা হবে। ১৫ বছরে কলকাতার পরিচয় বদলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। সকলে মিলে এ সব বন্ধ করব। কলকাতাকে সিটি অফ ফিউচার করব।’’

বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি করার ডাক

বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সব ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘বিজেপি জমানায় কোনও ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাঁদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ছাড়া হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। নেতাজি বলেছিলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। আজ তারা সব জোটে রয়েছে। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদিকে দিন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে। সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করুন। কমল চিহ্নে ভোট দিন।’’

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share